মাঝরাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, তারপরই বৃষ্টির মতো গুলি! পাকিস্তানে সেনাশিবিরে আত্মঘাতী হামলা

ফের রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান। এবার নিশানায় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনা ছাউনি। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র আত্মঘাতী হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এটি দ্বিতীয় বড় মাপের আত্মঘাতী হামলা।

পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও রক্তক্ষয়ী লড়াই

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বাজাউরের এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। সন্ত্রাসবাদীরা প্রথমে সামরিক ঘাঁটির মূল প্রবেশপথে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়তেই ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপরই শুরু হয় এলোপাথাড়ি গুলি। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন সেনার প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর।

দায় স্বীকার টিটিপি-র

এই ভয়াবহ হামলার পর সরকারিভাবে দায় স্বীকার করেছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তাদের বিশেষ আত্মঘাতী বাহিনী ‘স্পেশাল ইশতিহাদি ফোর্সেস’ (SIF) এই অপারেশনটি চালিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরে কোয়েটায় হামলার পর এই প্রথম টিটিপি কোনো আত্মঘাতী হামলার দায় প্রকাশ্যে ও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করল।

অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া

গত মঙ্গলবারই এই প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত জেলার নৌরং বাজারে একটি বিস্ফোরক ভর্তি অটো দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মীসহ বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বাজাউরের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে পাক প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ আলগা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও এই অঞ্চলে জঙ্গি হামলায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

বাজাউরের এই হামলার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পাক সেনাবাহিনী। তবে একের পর এক জঙ্গি হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক যেমন বাড়ছে, তেমনই আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়ছে শেহবাজ শরিফ সরকারের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy