রাজনীতির ময়দান হোক বা আদালতের অলিন্দ— নিজের মেজাজ আর আক্রমণাত্মক বাচনভঙ্গির জন্য তিনি বরাবরই চর্চায় থাকেন। এবার কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির জেরে খোদ পুলিশ প্রশাসনকেই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরাসরি আইপিএস অফিসারদের ‘জেলে পাঠানোর’ হুঙ্কার দিলেন তিনি।
কেন মেজাজ হারালেন কল্যাণ?
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে ২০২৬-এর ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে আইনজীবীর পোশাকে দেখে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সেই সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ছিলেন না এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
“২ আইপিএস-কে জেলে ঢুকিয়েছিলাম, মনে রাখবেন!”
ঘটনাস্থলেই মেজাজ হারিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রেকর্ড মনে রাখবেন! আমি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার ইতিহাস ভুলে যাবেন না। আগে দুই আইপিএস অফিসারকে আমিই জেলে ঢুকিয়েছিলাম।” তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও নিমেষেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি বার্তা, আইনের মার প্যাঁচ তাঁর নখদর্পণে এবং কর্তব্য পালনে অবহেলা করলে পরিণতি ভালো হবে না।
চাপানউতোর তুঙ্গে
তৃণমূল নেত্রীর হেনস্থার ঘটনায় কল্যাণের এই ‘রণংদেহি’ মেজাজকে দলের কর্মীরা সমর্থন করলেও, পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী আসীন হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সরকারি আধিকারিকদের এভাবে হুমকি দেওয়া অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অনড় তাঁর অবস্থানে। তাঁর দাবি, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্ষীয়ান আইনজীবীর নিরাপত্তা নিয়ে কেন ছিনিমিনি খেলা হবে? পুলিশকে তাঁদের দায়বদ্ধতা মনে করিয়ে দিতেই তিনি তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
হাইকোর্ট চত্বরে তৃণমূলের এই দুঁদে আইনজীবীর ‘জেল খাটানোর’ হুঁশিয়ারি এখন রাজ্য রাজনীতির টক অফ দ্য টাউন। এখন দেখার, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ কোথায় গিয়ে থামে।





