বীরভূমের এই সতীপীঠে সতীর ‘মন’ আজও জাগ্রত! রহস্যময় ৫ কুণ্ডের জল কি সত্যিই অলৌকিক?

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলাকে বলা হয় রাঙামাটির দেশ, আর এই মাটির পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে আধ্যাত্মিকতা। বীরভূম মানেই কালীপীঠের সমাহার। কথিত আছে, বীরভূমের মন্দির দর্শন একদিনে শেষ করা অসম্ভব। ৫১ সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতীপীঠ এই জেলাতেই অবস্থিত। তার মধ্যে বক্রেশ্বর তীর্থক্ষেত্রটি পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। কেবল শৈবপীঠ হিসেবেই নয়, সতীপীঠের টানেও বছরভর ভক্তরা এখানে ভিড় জমান।

ওড়িশার বিখ্যাত ‘রেখ-দেউল’ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত বক্রেশ্বরের বিশাল সাদা শিব মন্দিরের দক্ষিণ দিকেই অবস্থিত দেবী মহিষমর্দিনী মন্দির। এই মন্দিরের বেদিতে অধিষ্ঠিত পিতলের তৈরি এক দশভুজা দুর্গামূর্তি। স্থানীয় সেবায়েত ও ঐতিহাসকদের মতে, এই মূর্তির ঠিক নিচেই একটি গর্তের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে দেবী সতীর দেহাংশ অর্থাৎ তাঁর ‘মন’। লোকশ্রুতি অনুযায়ী, আগে একাধিক পিতলের মূর্তি এখানে স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি ক্ষয়ে যাওয়ার পর বর্তমান মূর্তিটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বক্রেশ্বর নামের পেছনে রয়েছে এক প্রাচীন ইতিহাস। বলা হয়, ঋষি অষ্টাবক্র মুনির নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয়েছে বক্রেশ্বর। এখানে দেবী দুর্গা রূপে বা মহিষমর্দিনী রূপে পূজিতা হন, তাই দুর্গাপূজার সময় এখানে অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখা যায়। শিব ও শক্তির এক অপূর্ব মিলনস্থল এই বক্রেশ্বর।

মূল মন্দিরের পাশাপাশি এখানে আরও পাঁচটি পবিত্র শিবলিঙ্গ রয়েছে— কুবেরেশ্বর, সিদ্ধেশ্বর, জ্যোতির্লিঙ্গেশ্বর, কালারুদ্রেশ্বর ও জম্ভশ্বর। তবে বক্রেশ্বরের প্রধান আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক উষ্ণ জলকুণ্ডগুলি। ভৈরবকুণ্ড, ক্ষারকুণ্ড, অগ্নিকুণ্ড এবং জীবৎসকুণ্ডের মতো মোট নয়টি কুণ্ড রয়েছে এখানে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই কুণ্ডের জলে রয়েছে অলৌকিক ঔষধি গুণ, যা চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সক্ষম। বীরভূমের এই পবিত্র তীর্থক্ষেত্রটি আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।