১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অলিন্দে এখন প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিধানসভার পরবর্তী অধ্যক্ষ (স্পিকার) কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে টানটান নাটক। মঙ্গলবার ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো তাদের প্রার্থীর নাম। স্পিকার পদের লড়াইয়ে বিজেপির বাজি কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বলিষ্ঠ নেতা তথা বিধায়ক রথীন্দ্র বোস। এদিন বিধানসভার সচিবের কাছে তাঁর মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক বড় রাজনৈতিক বার্তা দেন। তিনি জানান, রথীন্দ্র বোস কেবল একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক নন, তিনি একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)। তাঁর উচ্চশিক্ষা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে জাতীয় নেতৃত্বের অনুমোদনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “রথীন্দ্র বাবু একজন নিষ্ঠাবান কর্মী, দলের আদর্শ মেনে তিনি কয়েক দশক ধরে কাজ করছেন। স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে তাঁর মতো মার্জিত ও শিক্ষিত ব্যক্তির প্রয়োজন অনস্বীকার্য।”
শুভেন্দু অধিকারী এদিন সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানান সংসদীয় ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য। সাধারণত স্পিকার নির্বাচনে ভোটাভুটি হয় না এবং সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। সেই প্রথাকে স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমরা চাই পরম্পরা বজায় থাকুক। বিরোধী পক্ষকেও বলব যাতে ভোটাভুটি না করে সর্বসম্মতিক্রমে স্পিকার নির্বাচন করা হয়। গতবারও আমরা ৭৭ জন ছিলাম কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি।” তবে এবার কেন প্রার্থী দেওয়া হলো, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রথীন্দ্র বোসকে প্রার্থী করে বিজেপি একদিকে যেমন নিজেদের শিক্ষিত মুখকে সামনে আনল, অন্যদিকে শাসক দলের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল। গত বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেও শুভেন্দু অধিকারী এদিন কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা এমন একজন স্পিকার চাই যিনি নিরপেক্ষ হবেন। অন্তত বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে ফেলে রাখবেন না।” উল্লেখ্য, আগের অধিবেশনে বারবার বিজেপি বিধায়কদের সাসপেনশন নিয়ে উত্তপ্ত হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি, সেই ক্ষোভই এদিন শুভেন্দুর গলায় স্পষ্ট ছিল।
আগামী শুক্রবার বেলা ১১টায় বিধানসভায় এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। এখন সবার নজর রাজভবন এবং বিধানসভার দিকে—তৃণমূল কি বিজেপির এই প্রার্থীপদকে গুরুত্ব দিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের পথে হাঁটবে, নাকি ভোটাভুটির মাধ্যমেই চূড়ান্ত হবে নতুন স্পিকারের নাম? রথীন্দ্র বোসের জয় নিয়ে শুভেন্দু সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও, সংখ্যার বিচারে শাসক দল যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তা স্পষ্ট। তবে এই লড়াই বাংলার সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছে।





