দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত এলাকা সৈনিক ফার্মস এখন এক রোমহর্ষক অপরাধের সাক্ষী। যেখানে বীরত্বের জন্য দেশের সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মান ‘অশোক চক্র’ জয়ী এক সেনা সদস্যের নাম জড়িয়েছে অপহরণ, মারধর এবং হানি ট্র্যাপের মতো গুরুতর অপরাধে। ৭২ বছর বয়সী এক প্রবীণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টকে (CA) প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগে ওই জওয়ান সহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত ও হানি ট্র্যাপের ছক
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঘটনার মূল চক্রী কল্পনা কুমারী (৪০) ওই বৃদ্ধের পূর্ব পরিচিত ছিলেন। গত ২রা মে সন্ধ্যায় কল্পনা দক্ষিণ দিল্লির ওই সিএ-র বাড়িতে যান। পরিকল্পনা মাফিক কল্পনার পিছু পিছু তার স্বামী তথা অশোক চক্র জয়ী সেনা সদস্য সুরেন্দ্র এবং তাদের দুই সহযোগী কুলদীপ ও সুশীল ওই বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে ঢুকেই অভিযুক্তরা ওই বৃদ্ধকে জিম্মি করে ফেলে। বৃদ্ধকে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করার পর ডাক্ট টেপ দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। এরপর আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা নগদ, সোনার আংটি এবং জরুরি নথি লুট করে তারা।
অপহরণ ও মুক্তিপণের দাবি
লুটপাটের পর অভিযুক্তরা ক্ষান্ত হয়নি। তারা ওই বৃদ্ধকে তাঁর নিজের গাড়িতেই তুলে নিয়ে মিরাটের দিকে রওনা দেয়। পথে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। প্রাণের ভয়ে বৃদ্ধ তাঁর এক পরিচিতের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা ধার করে তাদের দিতে বাধ্য হন। কিন্তু চাহিদামতো বিপুল অর্থ জোগাড় করতে না পারায় ক্ষুব্ধ অভিযুক্তরা ওই বৃদ্ধকে হরিয়ানার ফিরোজপুর ঝিরকা এলাকায় দিল্লি-মুম্বাই হাইওয়ের পাশে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। বৃদ্ধ কোনওক্রমে একটি স্থানীয় ধাবায় পৌঁছে পুলিশকে খবর দেন।
অশোক চক্র জয়ী থেকে অপরাধী
তদন্তে সবথেকে অবাক করা তথ্যটি হল সুরেন্দ্রর পরিচয়। ৩১ বছর বয়সী সুরেন্দ্র একজন কর্মরত সেনা সদস্য, যিনি ২০২১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করে গুলিবিদ্ধ হন এবং বীরত্বের জন্য ২০২২ সালে ‘অশোক চক্র’ সম্মানে ভূষিত হন। বর্তমানে মথুরায় কর্মরত থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ডিউটিতে যোগ দিচ্ছিলেন না। জানা গেছে, ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কল্পনার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁরা বিয়ে করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
নেব সরাই থানা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ শুরু করে। মাত্র ৩৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে মথুরা থেকে কল্পনা ও সুরেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হরিয়ানা থেকে গ্রেপ্তার হয় বাকি দুই সহযোগী। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে লুটের ৪ লক্ষ টাকা, সোনার গয়না, এয়ারগান এবং বৃদ্ধের গাড়িটি উদ্ধার করেছে। দেশের এক বীর সেনানির এমন অপরাধমূলক কার্যকলাপে স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ কর্তারাও।





