ভ্যাপসা গরমে এক চিলতে স্বস্তি পেতে এসি চালানোই এখন দস্তুর। কিন্তু সেই আরামের যন্ত্রটিই যে প্রাণঘাতী বিপদের আস্তানা হতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেনি গুজরাটের ভালসাদ জেলার পার্দির একটি পরিবার। এসির সুইচ অন করতেই ঠান্ডা বাতাসের পরিবর্তে ইউনিটের ভেন্ট থেকে বেরিয়ে এল তিনটি জীবন্ত বিষধর সাপ। এই হাড়হিম করা ঘটনার দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ভালসাদ জেলার পো রেলওয়ে এলাকার ওই বাড়িতে তখন উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুরা। বাইরের প্রবল দাবদাহ থেকে বাঁচতে তারা ঘরের এসি-টি চালু করেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায়, এসির ওপরের ভেন্ট দিয়ে অদ্ভুত কিছু একটা নড়াচড়া করছে। ভালো করে লক্ষ্য করতেই পরিবারের সদস্যদের রক্ত হিম হয়ে যায়। দেখা যায়, একটি নয়, একে একে তিনটি সাপ এসির গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছে। মুহূর্তের মধ্যে ঘর চিৎকারে ফেটে পড়ে। তবে আতঙ্কিত না হয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত এসি বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং দরজা আটকে দেন।
উদ্ধারকারীদের বয়ানে চাঞ্চল্য
খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থা ‘জীব দয়া’-কে। সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসি ইউনিটটি খুলতেই কার্যত চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় তাঁদেরও। একটি মাঝারি মাপের এসির ভেতরে কীভাবে তিনটি বিষধর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে ছিল, তা দেখে বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সাপ তিনটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। মনে করা হচ্ছে, এসির ড্রেন পাইপ বা দেওয়ালের কোনো সূক্ষ্ম ফাটল দিয়ে সাপগুলো ভেতরে প্রবেশ করেছিল।
কেন এসির ভেতর আশ্রয় নেয় সাপ?
সরীসৃপ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে সাপেরা শীতল ও আর্দ্র জায়গার সন্ধানে থাকে। এসির ড্রেন পাইপ দিয়ে জল বেরোনোর ফলে সেই জায়গাটি ঠান্ডা থাকে, যা সাপদের আকৃষ্ট করে। অনেক সময় সেই পাইপ বেয়েই তারা ইনডোর ইউনিটের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
বিপদ এড়াতে যা করবেন:
১. এসির ড্রেন পাইপের মুখে সূক্ষ্ম তারের জালি লাগিয়ে দিন।
২. পাইপটি দেওয়ালের যে ফুটো দিয়ে ভেতরে ঢুকেছে, সেই ফাঁকা অংশ সিমেন্ট বা পুটি দিয়ে ভালোভাবে বন্ধ করুন।
৩. দীর্ঘ বিরতির পর এসি চালানোর আগে ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।
৪. বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় বা আবর্জনা জমতে দেবেন না।





