২০২৫ সালের ১০ই নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার সন্নিকটে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়িবোমা (VBIED) বিস্ফোরণ মামলায় এবার চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। ১১ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই উচ্চ-তীব্রতার বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য হাতে পেয়েছে এনআইএ। পেশায় ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের মতো উচ্চশিক্ষিত পেশাদারদের নিয়ে গঠিত এই জঙ্গি মডিউলটি ভারতের বুকে এক ভয়াবহ নাশকতার ছক কষেছিল বলে অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে।
এনআইএ-র আরসি-২১/২০২৫/এনআইএ/ডিএলআই (RC-21/2025/NIA/DLI) মামলা নম্বরের অধীনে জমা দেওয়া ৭,৫০০ পৃষ্ঠার এই সুবিশাল চার্জশিটে ১০ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই গোটা পরিকল্পনার মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পুলওয়ামার বাসিন্দা পেশায় চিকিৎসক ডা. উমর উন নবী। মজার বিষয় হল, ওই বিস্ফোরণের সময় তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং বিস্ফোরণেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে ওই চিকিৎসকের পরিচয় নিশ্চিত করে এনআইএ।
জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগ ও ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’
তদন্তে জানা গেছে, এই মডিউলটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘আনসার গজনওয়াতুল হিন্দ’ (AGuH) এবং ‘আল-কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (AQIS)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। ধৃতরা ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’ নামক একটি গোপন মিশন পরিচালনা করছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করে শরিয়া শাসন প্রতিষ্ঠা করা। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরকটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (TATP), যা অভিযুক্তরা নিজেরাই গোপন পরীক্ষাগারে তৈরি করেছিল।
ড্রোন হামলা ও অবৈধ মারণাস্ত্রের ছক
এনআইএ-র চার্জশিটে আরও এক ভয়ংকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযুক্তরা কেবল গাড়িবোমায় সীমাবদ্ধ ছিল না; তারা ড্রোন এবং রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণযোগ্য আইইডি (IED) তৈরির পরীক্ষাও চালাচ্ছিল। জম্মু-কাশ্মীর সহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনায় এই ড্রোন হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে একে-৪৭ রাইফেল, ক্রিঙ্কভ রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ তাজা কার্তুজ ও দেশীয় পিস্তল। ফরেনসিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অনলাইন ও অফলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে এমএমও অ্যানোড এবং বিশেষ বৈদ্যুতিক সার্কিট সংগ্রহ করেছিল।
দেশজুড়ে জাল ও পরবর্তী পরিকল্পনা
দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট জুড়ে বিস্তৃত ছিল এই জঙ্গি জাল। এমনকি ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এবং জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা তাদের নিশানায় ছিল। এনআইএ-র সংগৃহীত ৫৮৮ জন সাক্ষী এবং ৩৯৫টি নথি প্রমাণ করে যে, এই চক্রটি দেশের অন্যান্য প্রান্তেও তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল। বর্তমানে এই মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতক বাকিদের খোঁজে জোর তল্লাশি চলছে।





