বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। বুধবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হল নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ কর্মসূচি। প্রথা ও রাজধর্মের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে এদিন সকালেই ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে প্রথম শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিধানসভা চত্বরে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপের মধ্যে ছিল ভক্তি এবং শ্রদ্ধার এক গভীর ছাপ।
এদিন বিধানসভা ভবনে প্রবেশের অব্যবহিত পরেই মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান সংবিধান প্রণেতা ড. বিআর আম্বেডকরের মূর্তির পাদদেশে। সেখানে মাল্যদান করে ভারতীয় সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন তিনি। এরপর বিধানসভা চত্বরে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রথাগত ‘গার্ড অফ অনার’ প্রদান করা হয়। তবে উপস্থিত সকলের নজর কেড়ে নেয় এক আবেগঘন মুহূর্ত; বিধানসভা ভবনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে পৌঁছেই নতজানু হয়ে ভূমি স্পর্শ করে প্রণাম করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভাকে ‘গণতন্ত্রের মন্দির’ হিসেবে অভিহিত করে ভিতরে প্রবেশ করে তিনি বিশেষ পুজোও সারেন। পুজোর সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই তিনি তাঁর সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন, যা মুহূর্তেই নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালিত হয় প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ পাঠের পর একে একে বিজেপি বিধায়করাও পবিত্র শপথ গ্রহণ করেন। দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডুরা এদিন বিধায়ক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। পরিষদীয় দলের মধ্যে এদিন এক অভাবনীয় উৎসাহ এবং শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
গোটা প্রক্রিয়াটিকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিকভাবে দু’টি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৯টি জেলা এবং মুর্শিদাবাদের মোট ৭৬ জন বিধায়ক শপথ নেন। দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টো থেকে নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮০ জন বিধায়কের শপথ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাজ্যের বাকি ১১টি জেলার জয়ী বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। আজকের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বর জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও সাজ সাজ রব।





