রাজ্যের রাজপথ তথা হাইওয়েগুলিকে তোলাবাজি ও ‘কাটমানি’ মুক্ত করতে এক বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটাতে রাজ্যের সমস্ত বেআইনি টোল গেট ও ড্রপ গেট অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই রাস্তা আটকে টাকা আদায় করা চলবে না।
বেআইনি টোল উচ্ছেদে কড়া বার্তা
মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, জেলাগুলিতে যে সমস্ত টোল গেট বা ড্রপ গেট অবৈধভাবে চলছে, সেগুলি অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। এই দায়িত্ব সরাসরি জেলাশাসকদের (DM) কাঁধে দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ধরণের অবৈধ কেন্দ্রগুলি দ্রুত চিহ্নিত করেন এবং তা সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন। মূলত পণ্যবাহী লরি চলাচলের পথে বিভিন্ন জায়গায় অবৈধভাবে ড্রপ গেট বসিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ আসছিল, যা রুখতেই এই কড়া অবস্থান।
১৫ মে-র মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব
নির্দেশিকায় কেবল উচ্ছেদের কথা বলা হয়নি, বরং জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্বচ্ছ তালিকাও চাওয়া হয়েছে। জেলাগুলিকে তাঁদের এলাকায় থাকা সমস্ত বৈধ এবং অবৈধ আদায় কেন্দ্রের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের টেন্ডারের মেয়াদ কতদিন এবং কোন কর্তৃপক্ষ সেই টাকা আদায় করছে, তার বিস্তারিত তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক। আগামী ১৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে এই তালিকা আন্ডার সেক্রেটারির কাছে জমা দেওয়ার জন্য কড়া ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের জন্য কড়া সতর্কতা
সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবৈধ কেন্দ্রে ফি বা শুল্ক আদায় করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। যদি কোনো জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এই নির্দেশ পালনে গাফিলতি করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাঁর সরকারের আমলে কোনো ধরণের তোলাবাজি বা কাটমানি বরদাস্ত করা হবে না। এই নির্দেশিকা সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ ট্রাক চালক ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে এবং রাজ্যজুড়ে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হবে।





