“১৫ মে-র মধ্যে রিপোর্ট তলব!”-অবৈধ টোলপ্লাজ়া রুখতে শুভেন্দু সরকারের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’

রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের হয়রানি বন্ধ করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত অবৈধ টোলপ্লাজ়া এবং টোলগেট দ্রুত বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিল নবান্ন। মঙ্গলবার রাতে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের দপ্তর থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় স্বচ্ছতা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসকের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির মূল পয়েন্টগুলি একনজরে:

  • অবৈধ গেট উচ্ছেদ: রাজ্যের প্রতিটি জেলায় যেখানে যেখানে বেআইনি টোলগেট, ড্রপগেট, ব্যারিকেড বা ‘অপারেশনাল কালেকশন পয়েন্ট’ রয়েছে, সেগুলি অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দিতে হবে।

  • নজরদারি: একবার উচ্ছেদের পর যাতে পুনরায় সেই জায়গায় কোনো অবৈধ গেট বা কালেকশন পয়েন্ট বসানো না হয়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে।

  • আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা: এই ধরনের অবৈধ পয়েন্ট থেকে কোনোভাবেই যাতে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা তোলা না হয়, পুলিশ ও প্রশাসনকে তা কঠোরভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে।

বৈধ টোলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তলব: নবান্ন কেবল অবৈধ গেট বন্ধ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বৈধ ব্যবস্থার ওপরও রাশ টানতে চাইছে। জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—রাজ্যে মোট কতগুলি বৈধ টোলগেট রয়েছে, সেগুলি কারা পরিচালনা করছে এবং তাদের টেন্ডারের মেয়াদ কতদিন, তার বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। এ ছাড়াও অনুমোদিত ‘অথোরাইজ়ড কালেকশন পয়েন্ট’-এর সঠিক সংখ্যাও জানাতে হবে।

ডেডলাইন ১৫ মে: মুখ্যসচিবের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে, শুক্রবার দুপুর ১২টার মধ্যে এই সমস্ত তথ্য ও রিপোর্ট নবান্নে জমা করতে হবে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যজুড়ে ‘তোলাবাজি’ রুখতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশেই এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যসচিব। এর ফলে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে পকেট কাটার হাত থেকে রেহাই পাবেন ট্রাকচালক থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy