পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দেওয়া শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার কোমর বেঁধে নামল সিবিআই (CBI)। রাজ্য সরকারের অনুরোধে এই মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। একইসঙ্গে তদন্তের গভীরে পৌঁছাতে দিল্লির স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডিআইজি পঙ্কজ সিংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি শক্তিশালী সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে।
সিবিআই-এর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT): তদন্তের গুরুত্ব বুঝে এই বিশেষ দলে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ অফিসারদের। ডিআইজি পঙ্কজ সিংয়ের অধীনে থাকবেন:
২ জন এসপি (SP) পদমর্যাদার অফিসার।
৩ জন ডিএসপি (DSP) পদমর্যাদার অফিসার।
১ জন ইনস্পেক্টর।
এফআইআর-এ কী জানাল কেন্দ্রীয় সংস্থা? সিবিআই-এর দাবি, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনাটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং এর নেপথ্যে সুপরিকল্পিত এবং গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। চন্দ্রনাথের ভাইয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল রাত ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ দোহরিয়া শৈলেশ নগর এলাকায় একটি মহিন্দ্রা স্করপিও গাড়িতে যাচ্ছিলেন চন্দ্রনাথবাবু। সেই সময় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা গাড়ি থামিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে বা পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে অত্যাধুনিক বন্দুক ব্যবহার করে তাঁকে গুলি করে।
উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে গ্রেফতার শার্প শ্যুটার: তদন্তে নেমে ইতিমধ্য়েই বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে ৩ জন অভিযুক্তকে পাকড়াও করা হয়েছে।
রাজ সিং: এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল কারিগর। উত্তরপ্রদেশের বালিয়ার বাসিন্দা রাজ নিজেকে ‘অল ইন্ডিয়া ক্ষত্রিয় মহাসভা’-র নেতা বলে পরিচয় দিত। অতীতেও তার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
ময়ঙ্ক মিশ্র ও ভিকি মৌর্য: বিহারের বক্সার জেলা থেকে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি অত্যন্ত পেশাদার ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৮ জন জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দিল্লির স্পেশাল টিমের এই সক্রিয়তা অপরাধীদের মনে যেমন ত্রাস সৃষ্টি করেছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে এই খুনের নেপথ্যে থাকা ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর নাম জানার অপেক্ষায় এখন সবাই।





