বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল রাজ্য বিধানসভা। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পা রাখলেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। এদিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়।
জোড়া জয় ও ঐতিহাসিক উত্থান
এবারের নির্বাচন শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি দুটি আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং দুটিতেই বিপুল জনসমর্থন নিয়ে জয়ী হয়েছেন। নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করকে পরাজিত করার পাশাপাশি, ভবানীপুর কেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। এই জয়ের ওপর ভর করেই রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৯ মে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, আজ বিধায়ক হিসেবে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো।
বিধানসভায় শপথ গ্রহণের মহোৎসব
বুধবার কেবল মুখ্যমন্ত্রী একাই নন, নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বর ছিল সরগরম। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় একে একে জয়ী প্রার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সূচি অনুযায়ী, বুধ ও বৃহস্পতিবার—এই দু’দিন ধরে চলবে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া। বুধবার প্রথম অর্ধে উত্তরবঙ্গ ও মুর্শিদাবাদের বিধায়করা শপথ নেন। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নির্ধারিত রয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি শপথ নেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অগ্নিমিত্রা পাল এবং রথীন্দ্র বোসের মতো ব্যক্তিত্বরা। এছাড়াও বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়েছেন অশোক কীর্তনীয়া, সাবিত্রী বর্মণ এবং ক্ষুদিরাম টুডু সহ অন্যান্যরা।
অমিত শাহের ঘোষণা ও নতুন সরকারের লক্ষ্য
গত ৯ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণার পরেই। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করে আটটি আবেদন এসেছিল। দ্বিতীয় কোনও নামের প্রস্তাব না আসায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” ৯ মে শপথ গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারে কোমর বেঁধে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। নতুন সরকারের লক্ষ্য যে উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন, তা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে তাঁর আজকের এই শপথ গ্রহণ সেই অঙ্গীকারকেই আরও মজবুত করল।





