বিশ্বজুড়ে জ্বালানির হাহাকার এবং আকাশছোঁয়া তেলের দামের চাপে এবার কার্যত ‘নভিশ্বাস’ দশা একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্রের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবল পেট্রোল বা ডিজেল সাশ্রয় নয়, এবার সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর কোপ বসাতে শুরু করেছে বিশ্বের একাধিক দেশের সরকার। জ্বালানি বাঁচাতে কোথাও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, তো কোথাও আবার বাতানুকূল যন্ত্র বা এসি-র (AC) তাপমাত্রার ওপর বসানো হয়েছে কড়া নিয়ন্ত্রণ।
জ্বালানি বাঁচাতে অভিনব ‘ফতোয়া’:
এসি-র তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ: ইউরোপের বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই সরকারি ও বেসরকারি অফিসে এসি-র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২৪ বা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো যাবে না এসি-র পারদ। সরকারের যুক্তি, এসি-র তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি বাড়ালে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ এবং সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।
আবারও ওয়ার্ক ফ্রম হোম: করোনার স্মৃতি উসকে দিয়ে অনেক দেশে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমানো, যাতে অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমানো যায়। এতে যাতায়াতের খরচ এবং সময় দুই-ই বাঁচবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
গণপরিবহনে জোর: নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের বদলে সাইকেল বা বাস-ট্রেন ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি কিছু দেশে নির্দিষ্ট দিনে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটছে প্রশাসন।
আলোর সাজসজ্জায় কোপ: জ্বালানি বাঁচাতে গভীর রাতে শপিং মল বা স্মৃতিস্তম্ভের আলোগুলি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমিয়ে বিদ্যুতের খরচ কমানোই এখন বিশ্বজুড়ে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
কেন এই কড়াকড়ি? আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অনিশ্চিত যোগান এবং পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্তের পকেটে টান দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এখনই জ্বালানি ব্যবহারে রাশ টানা না যায়, তবে আগামী দিনে বড়সড় বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে বিশ্ব।
এখন প্রশ্ন উঠছে, বিদেশের এই কড়া নিয়ম কি এবার ভারতেও কার্যকর হবে? গরমের দাপটে যখন এসি ছাড়া থাকা দায়, তখন যদি তাপমাত্রার ওপর রাশ টানা হয়, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যে চরমে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। আপাতত জ্বালানি সাশ্রয় আর আরামের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক কঠিন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সারা বিশ্ব।





