নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকেই জল্পনা ছিল, কোন পথে হাঁটবে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার? সোমবার নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সেই কৌতূহল মেটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথম দিনেই ‘আসল পরিবর্তন’-এর বার্তা দিয়ে ৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যাবিনেট। আর বাংলার এই ভোলবদল দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং।
নমোর দরাজ সার্টিফিকেট রাজ্যে কেন্দ্রের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার ভাই ও বোনদের কল্যাণই সবার আগে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এখন থেকে এই রাজ্যের মানুষ বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। এর ফলে উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত হবে।” মোদীর এই বার্তায় স্পষ্ট, রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে আর কোনও বাধা রইল না।
শুভেন্দুর ৬টি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্যবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে যে ৬টি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল:
আয়ুষ্মান ভারত: রাজ্যে সরকারিভাবে চালু হচ্ছে এই প্রকল্প। প্রতিটি যোগ্য পরিবার বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।
চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি: সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণ প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়ানো হয়েছে। যা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর কাছে বড় উপহার।
সীমান্ত নিরাপত্তা: অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ। সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উজালা প্রকল্প: রান্নার গ্যাসের সংযোগ ও সুবিধাভোগীদের তালিকায় আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ।
কেন্দ্রীয় স্কিম বাস্তবায়ন: দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
প্রশাসনিক সংস্কার: সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন রূপরেখা।
ক্ষমতার সমীকরণ: তৃণমূল এখন বিরোধী শিবিরে উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের এই বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দীর্ঘদিনের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে থিতু হয়ে এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত ও চাকরির বয়স বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর সরকার জনকল্যাণমুখী ভাবমূর্তিতেই এগোতে চায়।
এখন দেখার, আয়ুষ্মান ভারত চালু হওয়ার পর রাজ্যের পুরনো প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ভবিষ্যৎ কী হয় এবং কীভাবে সাধারণ মানুষ এই দুই পরিষেবার সমন্বয় পায়। তবে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা আর নতুন সরকারের তৎপরতায় সরগরম বাংলার রাজনীতি।





