পপ জগতের জনপ্রিয় নাম দুয়া লিপা এবার আইনি লড়াইয়ে নামলেন টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের (Samsung) বিরুদ্ধে। অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর— অনুমতি ছাড়াই পপ সুন্দরীর ছবি ব্যবহার করে টিভির প্রচার চালিয়েছে সংস্থাটি। এই ‘বেআইনি’ কাজের জন্য প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলা ঠুকেছেন ‘লেভিটেটিং’ খ্যাত এই গায়িকা।
আসল ঘটনাটি কী? দুয়া লিপার আইনি পরামর্শদাতাদের দাবি, গত বছর থেকে স্যামসাং তাদের টিভির কার্ডবোর্ড প্যাকেজিং বা বাক্সের ওপর গায়িকার একটি ছবি ব্যবহার করতে শুরু করে। অভিযোগ, এই প্রচারের জন্য গায়িকার থেকে কোনো আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি, এমনকি কোনো আর্থিক চুক্তিও করা হয়নি। ওই ছবিটি ২০২৪ সালে ‘অস্টিন সিটি লিমিটস’ ফেস্টিভ্যালের ব্যাকস্টেজে তোলা হয়েছিল, যার কপিরাইট স্বত্ব রয়েছে খোদ দুয়া লিপার কাছেই।
কেন এই বিপুল অংকের মামলা? মামলায় দুয়া লিপার আইনজীবীরা বেশ কয়েকটি জোরালো পয়েন্ট তুলে ধরেছেন:
ভুল ধারণা তৈরি: টিভির বাক্সে দুয়া লিপার ছবি দেখে বহু গ্রাহক মনে করেছেন তিনি হয়তো স্যামসাংয়ের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর বা তিনি এই পণ্যের হয়ে প্রচার করছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
অবজ্ঞা প্রদর্শন: গত বছরের জুন মাসে বিষয়টি প্রথম সামনে আসার পর গায়িকার পক্ষ থেকে স্যামসাংকে ছবিটি সরাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সংস্থাটি সেই অনুরোধকে আমল দেয়নি এবং প্রচার চালিয়ে গিয়েছে।
ব্র্যান্ড ভ্যালু: দুয়া লিপা অত্যন্ত সচেতনভাবে নির্দিষ্ট কিছু নামী ব্র্যান্ডের (যেমন পোর্শে বা অ্যাপল) হয়ে কাজ করেন। অনুমতিহীন এই প্রচার তাঁর পেশাদার ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার ‘প্রমাণ’ মামলার নথিতে ভক্তদের কিছু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকেও প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক ভক্তই এক্স (টুইটার) বা ইন্সটাগ্রামে লিখেছেন, “টিভির বাক্সে দুয়া লিপার ছবি দেখেই আমি এটা কিনলাম।” এটি থেকেই স্পষ্ট যে গায়িকার জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করে স্যামসাং ব্যবসায়িক মুনাফা করেছে।
স্যামসাংয়ের প্রতিক্রিয়া এই হাই-প্রোফাইল মামলা নিয়ে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে প্রযুক্তি এবং বিনোদন জগতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লড়াই সহজে মেটার নয়। কোনো বড় তারকার ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করার এই অভিযোগ যদি আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে টেক কোম্পানিগুলোর বিপণন কৌশলে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
দুয়া লিপার এই আইনি পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, তারকাদের ব্যক্তিগত স্বত্ব ও ব্র্যান্ড ইমেজ কোনোভাবেই হেলাফেলার বিষয় নয়। এখন দেখার, ১৪৩ কোটির এই আইনি লড়াইয়ের জল কতদূর গড়ায়!





