তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিনেই শুরু হলো এক বিশাল ডিজিটাল বিতর্ক। রবিবার তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (TVK) প্রধান সি. জোসেফ বিজয় রাজ্যের ত্রয়োদশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দ্রাবিড় রাজনীতির দুই স্তম্ভ ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর কয়েক দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে বিজয়ের এই শপথ গ্রহণ যখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয়, ঠিক তখনই কংগ্রেসের একটি অভিযোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধী এবং নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী থালাপথি বিজয়কে নিয়ে তৈরি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ভিডিও বা রিল (Reel) মেটা (Meta) তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্লক করে দিয়েছে।
কংগ্রেস নেত্রী এবং রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শ্রীভাৎসা এক্স-এ (X) ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, ইনস্টাগ্রাম বিরোধী দলনেতার সেই রিলটি ব্লক করেছে যা মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ ভিউ পেয়েছিল। শুধু তাই নয়, ছবিসহ পোস্টটি ইতিমধ্যেই ৪ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) নির্দেশেই বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর দমন করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাহুল গান্ধী নিজেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে প্রশ্ন তোলেন, “এতে ভয়ের কী আছে? ভারতের আয়কর আইনের দোহাই দিয়ে বিজয় এবং আমাকে নিয়ে তৈরি এই ভিডিওটি কেন ব্লক করা হলো?”
তবে এই বিতর্ক দানা বাঁধার কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সরকারি সূত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, এই ঘটনার পেছনে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সূত্র মারফত জানা গেছে যে, মেটা বা ইনস্টাগ্রামের নিজস্ব ‘কন্টেন্ট মডারেশন সিস্টেম’ ভুলবশত রাহুল গান্ধীর ওই পোস্টটিকে ফ্ল্যাগ করেছিল। এটি সম্পূর্ণ একটি কারিগরি ত্রুটি বা প্ল্যাটফর্মের অটোমেটিক সিস্টেমের ফল। সরকারের পক্ষ থেকে ভিডিওটি সরানোর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে রাহুল গান্ধীর সেই ভাইরাল রিলটি পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, MeitY-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। মূলত তামিলনাড়ুর এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এবং রাহুল-বিজয় রসায়ন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশাল ঝড় তুলেছে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। ড্রামাটিক পলিটিক্যাল শিফটের দিনে এই ডিজিটাল সংঘাত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বাক-স্বাধীনতার বিতর্ক উসকে দিয়েছে।





