২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে পূর্ব ভারতে একচ্ছত্র দাপট দেখাল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর উচ্ছ্বাস চেপে রাখতে পারলেন না ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ফলাফলের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি একে এক ‘অসাধারণ অভিজ্ঞতা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পূর্ব ভারতে পদ্ম-শিবিরের দাপট: সোমবার নির্বাচনের ফলাফল ও প্রবণতা স্পষ্ট হতেই দেখা যায়, পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বিজেপি এবং তার সহযোগী দলগুলি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে গেরুয়া শিবিরের এই বৃদ্ধি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও চমকে দিয়েছে। এই জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং দলের নিচুতলার কর্মীদের পরিশ্রমকেই দিয়েছেন মানিক সাহা।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মানিক সাহা বলেন, “পূর্ব ভারতের মানুষের মধ্যে বিজেপির প্রতি যে আস্থা ও ভালোবাসা আমরা দেখেছি, তা সত্যিই অভাবনীয়। এই জয় প্রমাণ করে দেয় যে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার পক্ষেই রায় দিয়েছেন। আমার কাছে এটি একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।” তিনি আরও জানান, মানুষের এই রায় আগামী দিনে আরও বেশি দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করার প্রেরণা দেবে।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘মোদী ম্যাজিক’: মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার মতে, প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিই পূর্ব ভারতে দলের ভিত মজবুত করেছে। দীর্ঘদিনের বিরোধীদের দুর্ভেদ্য দুর্গগুলি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবেই দেখছেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর এই জয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, এই ফলাফল আগামী দিনে রাজ্যের এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আরও গতি আনবে। বিরোধীদের তোপ দেগে তিনি মনে করিয়ে দেন, নেতিবাচক রাজনীতির বদলে কাজের মূল্যায়নই করেছেন মানুষ।
ফল ঘোষণার পর থেকেই আগরতলা-সহ গোটা রাজ্যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল এবং আবির নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।





