‘স্বাস্থ্যসাথী’ কি অতীত? নবান্নে শুভেন্দুর বড় ঘোষণার পর শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে তুমুল হাহাকার!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই জল্পনা ছিল তুঙ্গে। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হওয়ার পথে। নবান্নে আয়োজিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালুর চূড়ান্ত ঘোষণা করার পরই ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার এই স্বপ্নের প্রকল্প কি তবে এবার বন্ধের মুখে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের প্রশাসনিক অলিন্দ থেকে সাধারণ মানুষের হেঁশেল পর্যন্ত।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিশৃঙ্খলার চিত্র ধরা পড়েছে। আনন্দপুর থেকে বাইপাস—হাসপাতালগুলির করিডোরে এখন উৎকণ্ঠার ছায়া। সরকারি কোনো স্পষ্ট লিখিত নির্দেশিকা না থাকায় অনেক বেসরকারি হাসপাতালই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নতুন রোগী ভর্তি নিতে অনীহা প্রকাশ করছে। পিয়ারলেস হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা আপাতত কার্ড গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস ক্যান্সার হাসপাতালে কেমোথেরাপির জন্য কার্ড নেওয়া হলেও রেডিয়েশন বা বড় সার্জারির ক্ষেত্রে অনুমোদনে দীর্ঘ সময় লাগছে। মুকুন্দপুর ও বাইপাসের একাধিক হাসপাতালে ক্যান্সার বিভাগ ছাড়া অন্য বিভাগে কার্ড ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন সাধারণ মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে নিরুপায় রোগীরা সরকারি হেল্পলাইনে ফোন করেও সুরাহা পাচ্ছেন না।

এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে এবং রোগীদের জীবন নিয়ে ঝুঁকি রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’। তাঁরা রাজ্যের মুখ্যসচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, সরকার বদলের জেরে যেন কোনো জীবনদায়ী চিকিৎসা বা জরুরি অস্ত্রোপচার বন্ধ না রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রকল্পের নাম যা-ই হোক না কেন, পরিষেবা সচল রাখা সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে রাজ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে যাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন বা যাঁদের চিকিৎসা মাঝপথে রয়েছে, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও নবান্ন থেকে কোনো বিস্তারিত গাইডলাইন আসেনি। রাজনৈতিক এই টানাপড়েনের মাঝে এখন সাধারণ মানুষের একটাই দুশ্চিন্তা—শেষ পর্যন্ত পকেটের নীল কার্ডটি সচল থাকবে, নাকি চিকিৎসার জন্য নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের দোরগোড়ায় লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে? পরিস্থিতি স্পষ্ট হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।