পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে থাকায় এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় রীতিমতো সতর্কবার্তা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠান থেকে তিনি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের জন্য একগুচ্ছ পরামর্শ দেন। যার মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রয়োজনে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করার পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে করোনাকালের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “কোভিড চলাকালীন আমরা বাড়ি থেকে কাজ, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলাম। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমাদের পুনরায় সেই অভ্যাসে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে।” ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশ মেটানো হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা তেলের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আমদানিতে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর এড়িয়ে চলা, এক বছরের জন্য সোনা কেনা বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহণ বা কারপুল ব্যবহারের আর্জি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর মতে, ভারত একা নয়, বিশ্বের অনেক দেশই এই পথ অনুসরণ করতে শুরু করেছে। শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে জ্বালানি খরচ কমাতে সরকারি ক্ষেত্রে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে। পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলিও অফিসে উপস্থিতি কমিয়ে অনলাইন কাজের ওপর জোর দিচ্ছে। এমনকি খনিজ তেল উৎপাদনকারী দেশ হয়েও ইন্দোনেশিয়া আমদানির ওপর চাপ কমাতে অফিসের কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছে। মায়ানমারে তো পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের জেরে একদিন অন্তর গাড়ি চালানোর নিয়ম জারি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে যে ভার্চুয়াল মাধ্যমেও অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই পরীক্ষিত ‘সংকট-ব্যবস্থাপনা মডেল’টিকেই পুনরায় কার্যকর করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে খুব শীঘ্রই ভারতে বেসরকারি ও সরকারি ক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশিকা আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আপাতত তেলের খরচ কমিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারকে সুরক্ষিত রাখাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।





