২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শেষবার নবান্নে পা রেখেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন সঙ্গে ছিলেন তিন বিধায়ক, উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন মুখ্যসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর, ২০২৬ সালের ১১ মে সেই নবান্নেই ফিরলেন তিনি, তবে এক সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে। সোমবার বেলা ঠিক ১১টা ৩০ মিনিটে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে প্রবেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজকীয় কায়দায় তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং দেওয়া হয় সশ্রদ্ধ ‘গার্ড অফ অনার’।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে প্রথম দিনেই ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেছেন শুভেন্দু। নবান্নের ১৪ তলায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট কক্ষে তিনি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গত শনিবার শপথ নেওয়া বিজেপির হেভিওয়েট নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, ক্ষুদিরাম টুডু এবং নিশীথ প্রামাণিক। যদিও তাঁদের দফতর বণ্টন এখনও হয়নি, তবে প্রথম বৈঠকেই প্রশাসনিক কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
প্রথম দিনেই তিনটি বড় প্রশাসনিক বৈঠক সেরে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সকালেই মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘামিত্রা ঘোষ, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, সুশাসন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।”
বিকালের সূচিও ঠাসা। দুপুরেই জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৪টেয় নবান্নে বিজেপির সমস্ত জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সবশেষে রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তাদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর একটি বিশেষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দিনেই প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে এই ঘনঘন বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, রাজ্যে ‘সুশাসন’ ফেরাতে কোনো সময় নষ্ট করতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের করিডোর থেকে জেলা সদর—শুভেন্দুর প্রথম দিনের এই তৎপরতায় প্রশাসনিক মহলে এখন সাজ সাজ রব।





