বাংলার ‘মোদী’ হতে কি সান্যালই ভরসা? শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে হচ্ছেন আসল ‘গেমচেঞ্জার’?

সোমবার থেকে রাজ্যে এক নতুন ভোরের সূচনা। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবগঠিত বিজেপি সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করতে চলেছে। তবে প্রশাসনিক মহলে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন— কে সামলাবেন বাংলার ‘খালি তিলক’ হয়ে পড়ে থাকা অর্থ মন্ত্রক? ২০৭ জন বিধায়কের বিশাল বাহিনী থাকা সত্ত্বেও অর্থমন্ত্রীর পদটি এখনও শূন্য। মুখ্যমন্ত্রী একের পর এক জনমুখী প্রকল্পের নীল নকশা তৈরি করলেও, রাজ্যের বেহাল অর্থনীতির মোড় ঘোরাতে গেরুয়া শিবির এখন তাকিয়ে আছে বিধানসভার গণ্ডির বাইরের এক ‘মাস্টারমাইন্ডের’ দিকে।

বিজেপি সূত্রের খবর, বিধায়ক তালিকার গভীর পর্যালোচনার পর নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে যে, উচ্চস্তরের অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য প্রয়োজন এক বিশেষজ্ঞের মস্তিষ্ক। আর এখানেই উঠে আসছে ‘ল্যাটারাল এন্ট্রি’ বা পার্শ্বপথের প্রবেশ কৌশল। দিল্লির অলিন্দে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যালই এই পদের জন্য প্রথম পছন্দ। অক্সফোর্ড ফেরত এই বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদকে বাংলায় নিয়ে এসে উপনির্বাচনের মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় স্থায়ী করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে।

তবে এই পরিকল্পনার পথে রয়েছে একটি বড় রাজনৈতিক সমীকরণ। সঞ্জীব সান্যালের মতো ব্যক্তিত্বকে জায়গা করে দিতে গেলে একটি বিধানসভা আসন খালি করতে হবে। শুভেন্দু অধিকারী এবার ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভবানীপুরের প্রতীকী গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় তিনি নন্দীগ্রাম আসনটিই ছেড়ে দিতে পারেন। যদিও পূর্ব মেদিনীপুরের স্থানীয় নেতৃত্ব তাঁদের ‘ভূমিপুত্র’কে ছাড়তে নারাজ এবং কিছুটা অসন্তোষও দানা বেঁধেছে, কিন্তু রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে এই ত্যাগ স্বীকার অনিবার্য বলেই মনে করছে হাইকম্যান্ড।

সঞ্জীব সান্যাল ‘গ্লোবাল বাঙালি’র এক সার্থক প্রতিচ্ছবি। সেন্ট জেভিয়ার্স ও অক্সফোর্ডের প্রাক্তনী সান্যাল অর্থনীতির জটিল মারপ্যাঁচে যেমন দক্ষ, তেমনই তাঁর স্ত্রী স্মিতা সান্যালও বাংলায় মহিলা ভোটারদের সংগঠিত করতে বিজেপি-র হয়ে নেপথ্যে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁর ঐতিহ্যবাহী ধুতি-কুর্তা পরিহিত উপস্থিতি জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। সমর্থকরা মনে করেন, সান্যালই পারবেন ‘নেহরু-যুগের স্থবিরতা’ কাটিয়ে বাংলাকে উন্নয়নের মূলস্রোতে ফেরাতে। যদিও সমালোচকরা তাঁর ‘সংশোধনবাদী ইতিহাস’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তবুও বর্তমানে গোখলে ইনস্টিটিউটের আচার্য হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। সব মিলিয়ে, সোমবারের সচিবালয়ে শুভেন্দুর পাশে সঞ্জীব সান্যালই আগামীর বাংলার আসল ‘চাণক্য’ হন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy