মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই নিজের প্রশাসনিক মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে নিজের প্রথম কর্মদিবসেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটালেন তিনি। নিজের দফতর বা সিএমও-কে (CMO) আরও গতিশীল এবং কার্যকর করতে এক ধাক্কায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। অভিজ্ঞ আমলা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের সুনজরে থাকা আধিকারিকদের নিয়ে নিজের ‘কোর টিম’ সাজিয়ে নিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন বর্ষীয়ান আমলা সুব্রত গুপ্ত। প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত দক্ষ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই আধিকারিককে সিএমও-তে আনা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া রবিবার রাতেই কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে ৯ জন দুঁদে আধিকারিককে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে আসা হয়েছে। এই তালিকায় পি প্রমথ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক নবনীত মিত্তলের মতো নাম রয়েছে। এছাড়া ডায়মন্ড হারবারের এসডিও সহ ৭ জন আধিকারিককে সিনিয়র উপসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে সুরজিৎ রায়কে নিয়ে। বিধানসভা ভোটের সময় তিনি ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসার ছিলেন। সেই সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হলেও কমিশন তাঁকে সরায়নি। এবার সেই সুরজিৎ রায়কেই নিজের দফতরে ঠাঁই দিলেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আমলাদের ওপর কোপ পড়েছে। স্বরাষ্ট্র দফতরের সহকারী সচিব পবিত্র চক্রবর্তীকে উত্তরবঙ্গের পরিবহণ দফতরে বদলি করা হয়েছে। শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সচিব (PS) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শান্তনু বালা।
প্রশাসনের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে এদিন মোট ৬২ জন আমলাকে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরে তলব করা হয়েছে। জানা গেছে, এঁদের অধিকাংশই পূর্বতন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত’ এবং স্বচ্ছ করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।





