পারিবারিক বিবাদ যখন চরম নৃশংসতার রূপ নেয়, তখন সম্পর্কের সমীকরণগুলো যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তার প্রমাণ মিলল উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায়। নিজের জামাইয়ের হাতেই প্রাণ হারাতে হলো ৪৯ বছর বয়সী কাজি মোজাফফার আহমেদকে। শুধু খুন করাই নয়, ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দিতে মৃতদেহের মুখে ঘাস মারার বিষ ঢেলে দেওয়ার মতো নারকীয় অভিযোগ উঠেছে জামাই শামীম গাজীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত জামাই-সহ দু’জনকে আটক করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। বাদুড়িয়া থানার তেঁতুলিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ভাটার রাস্তা থেকে মোজাফফার আহমেদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী হুমায়ুন কবীর জানান, মাগরিবের নমাজের সময় আচমকাই খবর আসে একটি ইকো গাড়িতে করে আসা কয়েকজন যুবক একজনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। নিরাপত্তারক্ষীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে আসার আগেই দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাটির ওপর পড়ে আছে মোজাফফারের দেহ, পাশেই তাঁর বাইক এবং ঘাতকদের চার চাকার গাড়িটি।
মৃতের গলায় শ্বাসরোধ করার স্পষ্ট দাগ থাকলেও পাশে পড়ে ছিল একটি বিষের বোতল। স্থানীয়দের দাবি, খুনের মামলা থেকে বাঁচতে এবং তদন্ত অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই মৃতদেহের মুখে বিষ ঢেলে ‘চরম পদক্ষেপ’ বা আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্তরা। স্বরূপনগর থানার বাঁকড়া এলাকার বাসিন্দা শামীম গাজীর সঙ্গে মোজাফফারের মেয়ের দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। সেই অশান্তির জেরেই মেয়ে আরিফা খাতুন বর্তমানে বাপের বাড়িতেই ছিলেন। আরিফার দাবি, তাঁর স্বামী শামীম এর আগে বেশ কয়েকবার তাঁর বাবাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছিল।
কাঁদতে কাঁদতে আরিফা বলেন, “বাবা সকালে কাজে বেরোনোর সময় আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছিলেন। বলেছিলেন সন্ধ্যায় নাতনিকে নিয়ে নমাজ পড়তে বসতে। কিন্তু বাবা আর ফিরলেন না।” বাদুড়িয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক গাড়ি ও বাইকটি উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত খুন। পারিবারিক আক্রোশ নাকি এর পেছনে কোনো সুপারি কিলারের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে প্রশাসন। এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।





