বিধানসভায় মুখ্য সচেতক ফিরহাদ, কোন ছকে ১৮তম বিধানসভা সাজালো তৃণমূল?

১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজেদের সংসদীয় রণকৌশল সাজাতে বড়সড় রদবদল ঘটাল তৃণমূল কংগ্রেস। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দলের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ মুখদের ওপর আস্থা রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিষদীয় দলের কাজ আরও মসৃণ ও সুসংহত করতে একগুচ্ছ নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে শাসক-বিরোধী লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অভিজ্ঞতার কাঁধে গুরুদায়িত্ব তৃণমূলের অন্দরে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পর জানানো হয়েছে, এবার বিধানসভায় পরিষদীয় দলের নেতার (যিনি টেকনিক্যাল কারণে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করবেন) দায়িত্ব সামলাবেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সুবক্তা হিসেবে পরিচিত শোভনদেবের ওপর ভরসা রেখে দল বিধানসভায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে।

মহিলা নেতৃত্বে বিশেষ নজর এবারের নতুন টিমে লিঙ্গ সাম্য ও নারী ক্ষমতায়নের বার্তাও স্পষ্ট। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে যোগ্য সঙ্গ দিতে ‘ডেপুটি লিডার’ বা উপ-দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দুই হেভিওয়েট মহিলা নেত্রীকে— অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনসংযোগে দক্ষ এই দুই নেত্রীর হাত ধরে তৃণমূল বিধানসভায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাশ থাকবে ফিরহাদের হাতে অন্যদিকে, বিধানসভায় দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিধায়কদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘চিফ হুইপ’ বা মুখ্য সচেতকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের দাপুটে নেতা ফিরহাদ হাকিমকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদের মতো সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাকে এই দায়িত্বে আনার অর্থ হলো, বিধানসভার অন্দরে দলের রাশ অত্যন্ত শক্ত হাতে রাখতে চাইছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

লক্ষ্য ছাব্বিশের পরবর্তী সংসদীয় লড়াই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে নবনিযুক্ত এই আধিকারিকদের অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনের সাফল্যের কামনা করা হয়েছে। দলের এক নেতার কথায়, “বাংলার মানুষের স্বার্থে আরও দায়বদ্ধভাবে কাজ করতেই এই নতুন টিম গঠন করা হয়েছে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ১৮তম বিধানসভায় পরিষদীয় লড়াইয়ে একদিকে যেমন আক্রমণাত্মক মেজাজ বজায় রাখা দরকার, অন্যদিকে তেমনই সংযত ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সুপরিকল্পিত রদবদল সেই লক্ষ্যেই একটি মাস্টারস্ট্রোক। এখন দেখার, শোভনদেব-ফিরহাদ-অসীমাদের এই নতুন সমন্বয় বিধানসভার অন্দরে বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সফল হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy