আর কতদিন অপেক্ষা? ৪৫ দিনের ‘ডেডলাইন’ শেষ হতেই কি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ডিএ-র মোটা টাকা?

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে এখন একটাই গুঞ্জন—অবশেষে কি রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘সুদিন’ সমাগত? দীর্ঘ কয়েক বছরের বঞ্চনা, রাজপথের আন্দোলন আর আইনি লড়াইয়ের পর এবার কি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বর্ধিত বেতন পেতে চলেছেন সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা? রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই এই প্রশ্নটি এখন সবথেকে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া ‘৪৫ দিনের প্রতিশ্রুতি’ ঘিরেই এখন আশার আলো দেখছেন লক্ষ লক্ষ কর্মীবৃন্দ।

বিগত সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরকারি কর্মীদের আন্দোলন এক নজিরবিহীন পর্যায় পৌঁছেছিল। শহিদ মিনারের পাদদেশে দিনের পর দিন অবস্থান থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি—সবই করতে হয়েছে তাঁদের। অভিযোগ উঠেছিল যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ডিএ প্রদানে টালবাহানা করেছে। এমনকি সর্বশেষ বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাও শিক্ষকদের একাংশ পাননি বলে অভিযোগ। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময়কার শাসকদলের পক্ষ থেকে আসা ‘ঘেউ ঘেউ করবেন না’-র মতো কটু মন্তব্য এখনও অনেকের স্মৃতিতে টাটকা।

তবে এবার কি সেই বঞ্চনার দিন শেষ হতে চলেছে? নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরেই রাজ্য জুড়ে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, খুব শীঘ্রই বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে ‘সপ্তম বেতন কমিশন’ গঠনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের খবর। যদি সত্যিই ৪৫ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে তা বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হতে চলেছে।

ইতিমধ্যেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিজেদের দাবিপত্র পেশ করেছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’-র সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল সরাসরি জানিয়েছেন যে, তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষকরা চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের ন্যায্য পাওনাটুকুও দেওয়া হয়নি। তাই নতুন সরকারের কাছে তাঁদের সবিনয় আবেদন, যেন শিক্ষকদের মান ও মর্যাদার কথা মাথায় রেখে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হয়। অন্যদিকে, ‘নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি’-র সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাসের কথায়, “আমরা আশা করছি নতুন সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানিয়ে দ্রুত ডিএ প্রদানের পথে হাঁটবে।”

অন্যদিকে, জাতীয় স্তরে যখন কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য দিন গুনছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলার রাজ্য সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশের আশায় বুক বেঁধেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয় এবং বকেয়া ডিএ মেটানো হয়, তবে প্রতিটি কর্মীর বেতন কাঠামোতে এক আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন দেখার, নতুন সরকার কত দ্রুত এই আর্থিক দায়ভার সামলে নিয়ে কর্মীদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। জুলাই মাসের মধ্যেই কি তবে খুশির জোয়ার আসবে নবান্নে? উত্তরের অপেক্ষায় বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিবার।