বাংলার রাজনীতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শঙ্খধ্বনি আর জয় শ্রী রাম স্লোগানের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দুর এই উত্থান বাংলার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হলো। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের উপস্থিতিতে এই রাজকীয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। প্রোটোকল মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
এদিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের মেজাজ ছিল উৎসবমুখর। গৈরিক পতাকা, সাধু-সন্তদের উপস্থিতি এবং কর্মী-সমর্থকদের উল্লাসে গোটা চত্বর সেজে উঠেছিল। জনৈক এক সাধু বলেন, “তৃণমূল জমানায় মুসলিম তোষণ তুঙ্গে ছিল, আজ বিজেপি আসায় হিন্দু সাধু-সন্তরা নিজেদের প্রাসঙ্গিক মনে করছেন।” অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী শিলিগুড়ির ৯৬ বছর বয়সী প্রবীণ বিজেপি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাখনলাল সরকারকে শাল পরিয়ে সম্মানিত করেন এবং তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এদিন আরও পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। কোচবিহারের দাপুটে নেতা নিশীথ প্রামাণিক, রানিবাঁধের আদিবাসী নেতা ক্ষুদিরাম টুডু (যিনি সাঁওতালি ভাষায় শপথ নেন), বনগাঁর মতুয়া মুখ অশোক কীর্তনীয়া, আসানসোলের অগ্নিমিত্রা পল এবং মেদিনীপুরের দিলীপ ঘোষ রাজভবনের এই বিশেষ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিমিত্রা পল বা দিলীপ ঘোষের মধ্যে কাউকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।





