শেষ হয়েও হইলো না শেষ! তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও গদিতে কে বসছেন, তা নিয়ে নাটক যেন থামবার নাম নেই। বরং সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রহস্য আর আইনি জটিলতা। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি, আর অন্যদিকে ‘জালিয়াতি’র অভিযোগ— সব মিলিয়ে মেগাস্টার থালাপথি বিজয়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার এখন এক অগ্নিপরীক্ষার মুখে।
সমর্থনপত্রের জাদুবল না কি ভুয়ো নথির ফাঁদ?
শুক্রবার রাতেই বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK) দাবি করেছিল, ম্যাজিক ফিগার ১১৮-এর সমর্থন তাঁদের পকেটে। রটে গিয়েছিল, শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়। কিন্তু রাজভবন থেকে বেরিয়ে আসতেই ছন্দপতন। রাজ্যপাল সূত্রে খবর মেলে, মৌখিক দাবি জানালেও ১১৮ জন বিধায়কের লিখিত সমর্থনপত্র পেশ করতে পারেননি বিজয়।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাঘাম (AMMK)-এর সাধারণ সম্পাদক টিটিভি দীনাকরণ সরাসরি বিজয়ের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, এএমএমকে-র একমাত্র বিধায়ক এস কামরাজের একটি ভুয়ো সমর্থনপত্র রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছেন বিজয়।
পাল্টা ভিডিয়ো যুদ্ধে টিভিকে
দীনাকরণের এই বিস্ফোরক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজয়ের দল। পাল্টাচাল হিসেবে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে টিভিকে। তাঁদের দাবি, বিধায়ক কামরাজ নিজের হাতেই ওই সমর্থনপত্রে সই করেছেন এবং তাতে স্বয়ং দীনাকরণেরও সবুজ সংকেত ছিল। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা এখনও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে কারা?
তামিল রাজনীতির এই চোরাবালির খেলায় এখন ত্রিমুখী লড়াই শুরু হয়েছে। ডিএমকে ও এডিএমকে— দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল এখন জোট বেঁধে বিজয়কে আটকানোর চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এমনকি বামেদেরও এই সমীকরণে টানার চেষ্টা করছে ডিএমকে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই গোটা নাটকের পিছনে রয়েছে বিজেপি ও রাজভবনের পরোক্ষ মদত। এনডিএ-র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতেই কি ইচ্ছাকৃতভাবে বিজয়কে আটকে দেওয়া হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন চেন্নাইয়ের অলিতে গলিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।
চাকরি আর গ্ল্যামার জগত ছেড়ে রাজনীতিতে পা রাখা থালাপথি কি পারবেন এই আইনি আর রাজনৈতিক ব্যূহ ভেদ করে কুর্সি দখল করতে? না কি বিরোধী জোটের চাপে আপাতত ‘যাত্রাভঙ্গ’ হবে তাঁর? উত্তর জানতে এখন গোটা দেশের নজর তামিলনাড়ুর রাজভবনের দিকে।





