চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষা করছে গোটা দেশ। তীব্র গরমের দাপটের মাঝেই এবার মিলল স্বস্তির খবর। ভারতে কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে বর্ষার কাউন্টডাউন। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি মরসুমে নির্ধারিত সময়েই দেশে প্রবেশ করতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। আর এই ইতিবাচক খবরের নেপথ্যে রয়েছে সুদূর অস্ট্রেলিয়ার এক বিশেষ আবহাওয়ামণ্ডলীয় পরিবর্তন।
অস্ট্রেলিয়া দিচ্ছে বড় সংকেত
সাধারণ মানুষের কাছে বিদেশের আবহাওয়া খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও, ভারতীয় আবহাওয়াবিদদের নজর এখন অস্ট্রেলিয়ার দিকে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি’ ঘোষণা করেছে যে, সে দেশে ২০২৫-২৬ মরসুমের বর্ষাকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। আর এখানেই লুকিয়ে আছে ভারতের জন্য সুখবর। নিয়ম অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় বর্ষা শেষ হওয়া মানেই নিরক্ষরেখার কাছে থাকা বিশাল বৃষ্টি-বহনকারী মেঘমালার বলয়টি উত্তর দিকে সরে আসার পথ পরিষ্কার হওয়া। এই মেঘের বলয়ই ভারতের মৌসুমি বায়ুকে সক্রিয় করে তোলে।
কেরলে বর্ষার পদধ্বনি
মৌসুমি বায়ুর বর্তমান গতিবিধি বিশ্লেষণ করে মৌসম ভবন (IMD) জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে আগামী ১ জুনের আশেপাশেই কেরল উপকূলে বর্ষা আছড়ে পড়বে। ইতিমধ্যেই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, কেরালা এবং তামিলনাড়ুতে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ শুরু হয়ে গিয়েছে। আগামী সাত দিনে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যগুলিতে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ঋতু পরিবর্তনের দোলাচল
চলতি মে মাসে দেশের অনেক অংশেই গত কয়েক বছরের তুলনায় গরম কিছুটা কম অনুভূত হয়েছে। তবে উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভারতে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কালবৈশাখী, শিলাবৃষ্টি এবং ঝড়ের প্রকোপ। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক অগ্রগতিরই লক্ষণ। বর্তমানে মেঘের সেই অদৃশ্য বলয়টি মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা পেরিয়ে ভারতের প্রথম প্রবেশদ্বার আন্দামান ও নিকোবরের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে।
বাংলায় বৃষ্টির অ্যালার্ট
মৌসুমি বায়ুর এই সক্রিয়তার প্রভাবে বাংলার জেলাগুলিতেও দুর্যোগের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী কয়েকদিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ৪০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের মুখে এই আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা চিন্তা বাড়াচ্ছে প্রশাসনের।
সব মিলিয়ে, পরিবেশ এখন বর্ষার অনুকূলে। কোটি কোটি মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবার সঠিক সময়েই তৃষ্ণার্ত ধরণীকে ভেজাতে আসছে।





