কলকাতার আকাশ-বাতাস আজ এক নতুন রাজনৈতিক বার্তার সাক্ষী। দীর্ঘ লড়াই ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজভবনের চিরাচরিত চার দেওয়ালের বদলে আজ শপথের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়া এই জননেতার অভিষেককে কেন্দ্র করে আজ কার্যত উৎসবের মেজাজে তিলোত্তমা।
সকাল থেকেই রাজপথের দখল নিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। শিয়ালদহ থেকে হাওড়া—প্রতিটি স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়। হাতে দলের পতাকা আর মুখে জয়ের উল্লাস নিয়ে রাজ্যের কোনা-কোনা থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন তাঁদের প্রিয় নেতাকে কুর্সিতে বসতে দেখতে। ভিড়ের চাপে ব্রিগেড চত্বর কার্যত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।
শপথের মাহেন্দ্রক্ষণে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। তবে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “এটি শুধু বিজেপি কর্মীদের নয়, বরং কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্নপূরণ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে এবার সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু হবে।” তাঁর কথায়, দীর্ঘদিনের ‘জঙ্গলরাজ’ ও ‘দুর্নীতি’র অবসান ঘটিয়ে বাংলার মানুষ গণতন্ত্রের প্রকৃত স্বাদ পেতে চলেছে।
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে। শমীক বাবু নিশ্চিত করেছেন যে, প্রোটোকল মেনেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ব্রিগেডে পৌঁছাবেন কি না, তা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধোঁয়াশা বজায় ছিল।
শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল; বরং একে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির এক বিশাল জয় হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। শিল্পায়ন, স্বচ্ছ কর্মসংস্থান এবং আইনের শাসন ফেরানোই এখন নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক দিনটি বাংলার রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে এক দীর্ঘস্থায়ী দাগ কেটে গেল।





