বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে সংযোজিত হলো এক নতুন অধ্যায়। তিলোত্তমার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ সম্পন্ন হলো। এই রাজকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে আজ গড়ের মাঠে আক্ষরিক অর্থেই নেমে এসেছিল চাঁদের হাট। দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জননেতাদের উপস্থিতিতে তপ্ত রোদের মধ্যেও উন্মাদনার পারদ ছিল তুঙ্গে।
মঞ্চে আজ সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল একঝাঁক মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকারের সূচনালগ্নে সংহতি জানাতে কলকাতা উড়ে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, যাঁর উপস্থিতিতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিশেষ উদ্দীপনা দেখা যায়। এছাড়াও ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নায়ডু এবং ত্রিপুরার মানিক সাহা। উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিহারের সম্রাট চৌধরি এবং মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ।
কেবল মুখ্যমন্ত্রীরাই নন, মোদী মন্ত্রিসভার একঝাঁক হেভিওয়েটও আজ ব্রিগেডের মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি এবং শিবরাজ সিংহ চৌহানের মতো শীর্ষ নেতৃত্বকে এক সারিতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় স্তরের এতজন প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার এই জয়কে গেরুয়া শিবির সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
বিশেষ অতিথিদের তালিকায় নজর কেড়েছেন এনসিপি নেতা প্রফুল পটেল। রাজ্যের দাপুটে নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালের পাশাপাশি মঞ্চে ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। শঙ্খধ্বনি ও জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে প্রকম্পিত ব্রিগেড আজ সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমাবেশের। বিশ্লেষকদের দাবি, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আসলে কেবল একটি নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নয়, বরং ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির একটি বড় বার্তা। ব্রিগেডের এই মহাসমাবেশই বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে বাংলার রাজনীতি কোন পথে এগোতে চলেছে।





