বাংলার তখতে নয়া সূর্যোদয়, মমতার বাড়ির সামনেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি, শুভেন্দুর শপথে আবেগের প্লাবন!

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে খোদাই হয়ে রইল আজকের তারিখ। দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রথা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ক্ষমতার এই নাটকীয় পটপরিবর্তন শুধুমাত্র একটি সরকারি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক গণজাগরণের রূপ নিল ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে।

শনিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ-বাতাস ছিল গেরুয়া আবিরে রাঙানো। জেলা থেকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের পদভারে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে মহানগরী। বাস, লরি, ছোট গাড়ি আর ট্রেনের ভিড়ে এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্রের সাক্ষী থাকল ব্রিগেড। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, এটি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, এটি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নতুন মুক্তি উৎসব।

ঠিক যখন ব্রিগেডে উল্লাসের আবহাওয়া, তখন তার ঠিক উল্টো ছবি ধরা পড়ল দক্ষিণ কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া এদিন ছিল অদ্ভুতভাবে নিস্তব্ধ। যেখানে একসময় হাজারো কর্মীর ভিড় আর স্লোগানে কান পাতা দায় হতো, সেখানে আজ শুধুই স্তব্ধতা। পরাজয়ের গ্লানি যেন গ্রাস করেছে গোটা এলাকাকে। কিন্তু এই নিস্তব্ধতার মাঝেই তৈরি হল এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি।

ব্রিগেডমুখী বিজেপি সমর্থকদের বড় বড় মিছিলগুলো যখন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট অতিক্রম করছিল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিক সামনে থমকে দাঁড়ায় বহু কর্মী। গেরুয়া পতাকা উঁচিয়ে তাঁরা সজোরে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে থাকেন। যে এলাকা এতদিন তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড় ছিল, সেখানে আজ অন্য দলের জয়ধ্বনি নতুন এক রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উচ্ছ্বসিত কর্মীদের দাবি, এটি দীর্ঘ লড়াইয়ের জয়। তাঁদের মতে, এই স্লোগান এখন কেবল ধর্মীয় নয়, বরং পরিবর্তনের প্রধান সংকেত। বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন কালীঘাট থেকে সরে ডালহৌসিতে, আর সেই অভিষেকের দিনে ব্রিগেডের গর্জন পৌঁছে গেল খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সদর দরজায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy