ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হয়, তবে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে তা যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করল। তারিখটা ছিল ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০। দিনটি ছিল শনিবার। মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন তিনি একাই দল ছাড়েননি, বরং রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল এক বিশাল ভাঙন। আজ, ৯ মে ২০২৬— ঠিক সাড়ে পাঁচ বছর পর আবারও সেই শনিবার। আর আজকের এই শনিবারে শুভেন্দু অধিকারী কেবল একজন বিজেপি নেতা নন, বরং পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে।
সাড়ে পাঁচ বছরের এই ব্যবধানে এই দুটি শনিবারই শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবনের সবথেকে স্মরণীয় এবং বাঁকবদলকারী দিন হয়ে থাকবে। ২০২০ সালে মেদিনীপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, তা ছিল বাংলায় ‘পদ্ম’ ফোটানো। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন পেলেও মসনদ দখলের লক্ষ্য অধরা ছিল। মুকুল রায়ের মতো নেতাদের প্রত্যাবর্তন এবং বিধায়ক ভাঙানোর খেলায় যখন বিজেপির মনোবল তলানিতে, তখন হাল ছাড়েননি শুভেন্দু। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে একদিকে যেমন প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন, তেমনই প্রতিটি কর্মীর ঘরে পৌঁছে গিয়েছেন মনোবল জোগাতে।
শুভেন্দুর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে তিনি তাঁর সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। ২০২৬-এর লড়াইয়ে সেই চ্যালেঞ্জ তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। ভবানীপুর— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক থেকে তাঁকে হারানোর যে হুঙ্কার শুভেন্দু দিয়েছিলেন, তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেখিয়েছেন। টানা দুবার এবং দুটি ভিন্ন কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে পরাস্ত করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাংলায় পরিবর্তনের মুখ তিনিই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী কেবল ভোট ব্যাঙ্ক সংগঠিত করেননি, বরং বাঙালির ‘দিদি’ ইমেজের বিপরীতে এক শক্তিশালী ‘দাদা’র ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরের লড়াইয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাইটার্স বা নবান্নের দখল নিতে গেলে লড়াইটা রাজপথেই লড়তে হয়। আজ ব্রিগেডের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু বিজেপির জয় নয়, বরং একজন লড়াকু মেদিনীপুরের ছেলের বাংলার মসনদে বসার ঐতিহাসিক জয়যাত্রা।





