অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আজ, শনিবার পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সূচনা করতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই গড় থেকেই জয় ছিনিয়ে নিয়ে শুভেন্দুর এই রাজকীয় উত্থান এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে এই মেগা ইভেন্টের ঠিক আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন কণ্ঠে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এটা শুধু আমাদের একক কোনো স্বপ্ন ছিল না, বরং বাংলার লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মীর দীর্ঘ লড়াই আর আত্মত্যাগের ফসল। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র মাটিতে এবার তাঁরই আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ আমাদের জীবনে এক অনন্য মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অবশেষে জঙ্গলরাজকে উপড়ে ফেলে দিয়েছে। আজকের দিনটি প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের জয় হিসেবে চিহ্নিত হবে।”
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক হিংসা ও অস্থিরতার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তাঁর মতে, নতুন বিজেপি সরকার শান্তি, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই কাজ শুরু করবে। এদিকে, ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাজো সাজো রব গোটা কলকাতায়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপিশাসিত ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকছেন।
সবচেয়ে বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি নিয়ে। এ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, যথাযথ প্রোটোকল ও সৌজন্য মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করতে চলায় ব্রিগেডের এই অনুষ্ঠান কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।





