বাংলার রাজনীতিতে এখন বসন্তের হাওয়া। নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড়ের মধ্যেই সবথেকে বেশি যে নামটি নিয়ে চর্চা হচ্ছে, তিনি হলেন অগ্নিমিত্রা পাল। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, রাজ্যের নতুন উপ-মুখ্যমন্ত্রী (Deputy CM) হিসেবে শপথ নিতে পারেন আসানসোল দক্ষিণের এই লড়াকু নেত্রী। কিন্তু ফ্যাশন দুনিয়ার গ্ল্যামার ছেড়ে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথে কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি? দেখে নেওয়া যাক তাঁর রাজনৈতিক সফরনামা।
ফ্যাশন থেকে রাজপথ: এক পলিটিক্যাল জার্নি এক সময় ভারতের প্রথম সারির ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। শ্রীদেবী থেকে শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তী— বলিউডের বহু তারকার পোশাক ডিজাইন করেছেন তিনি। কিন্তু ২০১৯ সালে গ্ল্যামার দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দেন। রাজনীতির ময়দানে পা রাখার অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের লড়াকু মেজাজ এবং বাগ্মিতার জোরে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে নজর কেড়ে নেন।
বিজেপি-র মহিলা মুখ ২০২০ সালে তাঁকে রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করা থেকে শুরু করে নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হওয়া— প্রতি ক্ষেত্রেই অগ্নিমিত্রা ছিলেন প্রথম সারিতে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করে দেন যে, কেবল ড্রয়িং রুম পলিটিক্স নয়, মাটির লড়াইয়েও তিনি সমান দক্ষ।
কেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে তিনি এগিয়ে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অগ্নিমিত্রাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী করার পিছনে তিনটি বড় কারণ থাকতে পারে: ১. নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব: বাংলার অর্ধেক আকাশ অর্থাৎ মহিলা ভোটারদের কাছে অগ্নিমিত্রার গ্রহণযোগ্যতা প্রচুর। ২. দক্ষ সাংগঠনিক দক্ষতা: আসানসোল থেকে কলকাতা— দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে লড়েছেন তিনি। ৩. পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: সুবক্তা এবং মার্জিত আচরণের জন্য শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের কাছেও তাঁর আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় অগ্নিমিত্রা পালের অন্তর্ভুক্তি নারী ক্ষমতায়নের দিক থেকে এক বড় বার্তা হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।





