উত্তরপ্রদেশের কর্মসংস্থান মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার এবার এক বিশাল মাইলফলক ছোঁয়ার দোরগোড়ায়। আসন্ন ১.৫ লক্ষ নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই রাজ্যে সরকারি চাকুরিজীবীর সংখ্যা পৌঁছে যাবে ১০ লক্ষের জাদুকরী গণ্ডিতে। গত ৯ বছরে প্রায় ৯ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করে যোগী সরকার ইতিমধ্যেই নজির গড়েছে, যা রাজ্যের যুবশক্তির উন্নয়নে এক বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের এই নিয়োগ অভিযানে সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুলিশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং রাজস্ব বিভাগকে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড প্রমোশন বোর্ড হাজার হাজার কনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষা বিভাগে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মী এবং রাজস্ব বিভাগে আধিকারিক ও লেখক পদে বড় আকারের শূন্যপদ পূরণ হতে চলেছে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ৯ বছরে যোগী সরকারের নিয়োগ নীতি স্বচ্ছতার এক নতুন মাপকাঠি তৈরি করেছে। আগের সরকারগুলোর আমলে যেখানে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠত, সেখানে বর্তমান সরকার অনলাইন আবেদন এবং নির্দিষ্ট সময়সূচী মেনে পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে প্রার্থীদের আস্থা অর্জন করেছে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণেই আজ লক্ষ লক্ষ মেধাবী প্রার্থী কোনো রকম রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই চাকরি পাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটাই সুবর্ণ সুযোগ। যেহেতু আগামী বছর নির্বাচনী বছর, তাই সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও গতি আনবে। বিশেষ করে যারা পুলিশ ও শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য প্রতিযোগিতা হবে অত্যন্ত তীব্র। উত্তরপ্রদেশ শিক্ষা সেবা নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ বোর্ড আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় পরীক্ষাগুলোর দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে।
যোগী সরকারের এই উদ্যোগকে রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই ‘যুব উন্নয়নের দিশারি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপ শুধু বেকারত্বই হ্রস করবে না, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকেও আরও শক্তিশালী করবে। যারা নিয়মিত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ— এখন থেকেই সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশোনা এবং মক টেস্টে জোর দিন। উত্তরপ্রদেশ এখন শুধু দেশের বৃহত্তম রাজ্যই নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক রোল মডেল হয়ে ওঠার পথে।





