মমতার মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল! ৮ মে থেকে বাংলায় কার শাসন?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছিলেন, “আমি হারিনি, কেন পদত্যাগ করব?” কিন্তু সেই অনড় অবস্থানের মাঝেই কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। ভারতীয় সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে পশ্চিমবঙ্গ মন্ত্রিসভা তথা বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। এর ফলে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান সরকারের কার্যকালের অবসান ঘটল।

সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারার প্রয়োগ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজভবন থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল জানান, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছেন। মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা ইতিমাজধ্যেই রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। মূলত বিধানসভার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক মুখেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

অচলাবস্থা কাটাতে কড়া পদক্ষেপ ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতকে কেন্দ্র করে। নিয়ম অনুযায়ী, ৭ মে রাত ১২টায় বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করায় রাজ্যে এক গভীর সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব ঘোষণা করেছে যে আগামী ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রশ্ন উঠেছিল, ৮ মে সারা দিন রাজ্য শাসনের দায়িত্বে কে থাকবেন? এই ধোঁয়াশা কাটাতে এবং প্রশাসনিক শূন্যতা রুখতেই রাজ্যপাল সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন।

শপথের পথে পরবর্তী সরকার রাজ্যপালের এই নির্দেশের ফলে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। অন্যদিকে, সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। আগামীকাল শুক্রবার দুপুর ঠিক ২টায় নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই পরবর্তী পরিষদীয় দলের নেতা তথা রাজ্যের হবু মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা হবে।

এটি কি রাষ্ট্রপতি শাসন? রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ধন্দ তৈরি হলেও ভারত সরকারের প্রাক্তন সচিব জওহর সরকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনোভাবেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া নয়। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগে পর্যন্ত যে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের তৈরি হয়েছে, সেখানে রাজ্যপাল তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন। এটি একটি সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র।

বর্তমানে গোটা রাজ্যের নজর এখন রাজভবন এবং বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের দিকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয় এবং আগামী ৯ মে বাংলার মসনদে কে বসেন, তা নিয়েই এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy