তিলোত্তমার বুকে ফিরছে ‘পাখিদের গান’! রূপঙ্কর বাগচীর কণ্ঠে কি তবে নতুন কোনো জাদুর ছোঁয়া?

ব্যস্ত শহরের যান্ত্রিক কোলাহল, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন আর জলবায়ুর বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা। কোকিলের ডাক কিংবা ভোরের পাখিদের কিচিমিচি এখন যেন কেবলই স্মৃতির পাতায়। কিন্তু সেই হারিয়ে যাওয়া ‘পাখিদের গান’ আবারও ফিরিয়ে আনতে চলেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রূপঙ্কর বাগচী। তবে এই গান কেবল প্রকৃতির নয়, বরং এক অদম্য জীবনযুদ্ধের গল্প বলবে।
‘এফএমডি বাংলা’ প্রযোজিত এবং লোপামুদ্রা মুখোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘আঁখি’-র জন্য একটি বিশেষ গানে কণ্ঠ দিলেন রূপঙ্কর। তাঁর সঙ্গে ডুয়েটে রয়েছেন আসানসোলের উদীয়মান প্রতিভা চিরঞ্জীব দে। এই ছবির মাধ্যমেই প্লে-ব্যাকে অভিষেক হচ্ছে চিরঞ্জীবের। পুরো বিষয়টির নেপথ্যে রয়েছেন গীতিকার ও সুরকার অভিজিৎ পাল।
গানের নেপথ্যের আবেগ:
ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে বেহালা ব্লাইন্ড স্কুলের এক জন্মগত দৃষ্টিহীন কিশোরীর জীবনকে কেন্দ্র করে। অভিজিৎ পালের কথায়, “লোপাদি যখন অন্ধ কিশোরীর গল্পটি আমাকে বললেন, তখনই মনে হয়েছিল তাকে দুনিয়া চেনাতে আকাশ, আলো আর পাখির ডানা প্রয়োজন। চোখ না থাকলেও মনের জোর যে কতটা আকাশছোঁয়া হতে পারে, তা এই মেয়েটির কণ্ঠই বলে দেবে।” অবাক করার মতো বিষয় হলো, গানটি গত দু’দিন আগে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অঝোর বৃষ্টিতে ভিজে লিখেছিলেন এবং সুর করেছিলেন অভিজিৎ। তখনই তিনি স্থির করেছিলেন, এই গানের জন্য রূপঙ্কর বাগচীই শ্রেষ্ঠ পছন্দ।
অভিজ্ঞতা ও নতুনত্বের মেলবন্ধন:
গানের চমৎকার অ্যারেঞ্জমেন্ট করেছেন সৌম্যদীপ হালদার। দীর্ঘ বিরতির পর এমন একটি মন ভালো করা গানে কাজ করতে পেরে আপ্লুত রূপঙ্কর নিজেও। রেকর্ডিং শেষে তিনি জানান, “একজন দৃষ্টিহীন মেয়ের লড়াই ও জীবনের গল্প নিয়ে এই ছবি। খুব যত্ন নিয়ে গানটি বানানো হয়েছে। অনেকদিন পর একটা সত্যিই ভালো গান গাইলাম। আশা করি, দর্শকদের ছবিটিও খুব ভালো লাগবে।”
ছবিটি খুব শীঘ্রই নন্দনে প্রদর্শিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিরঞ্জীবের মতো তরুণ প্রতিভা আর রূপঙ্করের অভিজ্ঞ সুরের মূর্ছনা—সব মিলিয়ে ‘আঁখি’ যে দর্শকদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নেবে, তা বলাই বাহুল্য। অন্ধকারকে জয় করে সুরের আলোয় ডানা মেলার এই কাব্যিক যাত্রা এখন মুক্তির অপেক্ষায়।