“ও আমার মাকে মারতে এসেছিল”— বন্ধু শতদীপের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ বনি সেনগুপ্তর, উত্তাল টলিউড!

খেলার মাঠে তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, সেলেব্রিটি ক্রিকেট লিগের (CCL) ময়দানে তাঁদের বন্ধুত্ব টলিউডের অন্যতম চর্চিত বিষয়। কিন্তু সেই বনি সেনগুপ্ত এবং শতদীপ সাহার সম্পর্কের ভিত আজ টালমাটাল। সৌজন্যের বদলে এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে তিক্ততা, আর এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছে টলিউডের প্রযোজক-পরিবেশকদের সংগঠন ‘ইম্পা’ (EIMPA)।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ইম্পা-র অন্দরমহল এখন তপ্ত। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন পরিবেশক ও প্রযোজকদের একাংশ। তাঁদের মূল দাবি—ইম্পা থেকে রাজনীতির রং মুছে ফেলতে হবে। এই দাবি নিয়ে একদল সদস্য ইম্পা অফিসে হাজির হলে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। অফিসের ভেতরেই আবির ছড়িয়ে উল্লাস এবং বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষ। আর এই গণ্ডগোলের মাঝেই বন্ধু শতদীপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন পিয়া সেনগুপ্তর পুত্র তথা অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত।
বনির সাফ দাবি, “ইম্পা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, সেখানে পরিবর্তন যে কেউ চাইতেই পারেন। কিন্তু অফিসে ঢুকে আবির ছড়িয়ে এই ধরনের আচরণ কাম্য নয়। সবথেকে বড় কথা, শতদীপ সাহাকে দেখলাম আমার মায়ের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করতে। ও আমার মাকে মারতেও এসেছিল।” বনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, শতদীপ তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও ন্যূনতম সৌজন্যবোধ দেখাননি। বনির কথায়, “শতদীপ আমার ‘বন্ধু ছিল’ বলছি কারণ ও আমার নামে আড়ালে অনেক কথা বলছে। বলা হচ্ছে, আমাকে সিনেমায় না নিলে নাকি টাইমিং পাওয়া যায় না! যদি তাই হতো, তবে আমি বাড়িতে বসে থাকতাম না।” বনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে তার প্রমাণ দিতে হবে।
পাল্টা মুখ খুলেছেন শতদীপ সাহাও। তিনি বনির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “বনি সেদিন ওখানে উপস্থিত ছিল না। ওর মা ওকে যা বুঝিয়েছেন, ও সেটাই বিশ্বাস করছে। আমি পিয়াদিকে মারতে গিয়েছি—এটার কোনও প্রমাণ থাকলে দেখাক। সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই সত্যিটা সামনে আসবে।” শতদীপ আরও যোগ করেন যে, বনি যদি বন্ধুত্ব রাখতে না চায় তবে সেটা তাঁর সমস্যা, শতদীপের নয়।
টলিউডের প্রশাসনিক ক্ষমতার লড়াই যে এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, বনি ও শতদীপের এই প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি তারই প্রমাণ। খেলার মাঠের দুই বন্ধু কি ফের এক হতে পারবেন, নাকি রাজনীতির দাপটে চিরতরে ভেঙে যাবে এই সম্পর্ক? আপাতত উত্তরের অপেক্ষায় টলিপাড়া।