“পাক্কা স্বার্থপর, সুযোগসন্ধানী!” বিজেপি নেতার সঙ্গে সৌরভের গোপন বৈঠক, ট্রোলিংয়ে বিদ্ধ মহারা

খেলার মাঠে তিনি লড়াকু অধিনায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও, রাজনীতির পিচে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘অবস্থান’ নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু বঙ্গে বিজেপি সরকার গড়ার পথে এগোতেই সেই বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেল। সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাজের দিকে ধেয়ে আসছে ‘স্বার্থপর’ থেকে ‘সুযোগসন্ধানী’—এরকম হাজারো তীক্ষ্ণ শব্দবাণ। নেপথ্যে বিজেপি নেতা পিএন পাঠকের সঙ্গে সৌরভের একটি সাম্প্রতিক বৈঠক এবং তার ভাইরাল হওয়া ছবি।

এক ছবিতেই তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি! সোমবার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই দেখা গিয়েছে, ২০৭টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বাংলায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপি। ঠিক তার পরেই কলকাতায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন বিজেপি নেতা পিএন পাঠক। নিজের এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে সেই বৈঠকের ছবি শেয়ার করে পাঠক লেখেন, “আজ কলকাতায় ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়জির সঙ্গে অনেকক্ষণ মিটিং হল।” ব্যস, এই ছবি ঘিরেই শুরু হয়েছে নেটিজেনদের গণ-আক্রমণ।

“পাক্কা সুযোগসন্ধানী লোক” – ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেটিজেনরা সৌরভকে নিশানা করতে ছাড়ছেন না তাঁর একসময়ের ভক্তরাও। ইনস্টাগ্রামে এক ইউজার লিখেছেন, “পাক্কা সুযোগসন্ধানী স্বার্থপর লোক। যেই দেখল হাওয়া ঘুরে গেল, তখনই বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিল।” অন্য এক ইউজারের কটাক্ষ আরও তীব্র, “দাদাগিরিতে যখন বিজেপিকে খুব দরকার ছিল, তখন উনি কথা বলেননি। এখন উনি যদি বিজেপিতে যোগ দেন, আমি তৃণমূলের জন্য প্রচার করব!” এমনকি সৌরভের পুরনো দিনের ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা’ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে শালবনীতে কারখানা গড়ার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলেও বিদ্রুপ করছেন অনেকেই।

অশোক দিন্দার সেই পুরনো মন্তব্যই কি সত্যি? একসময় সৌরভের একদা সতীর্থ তথা বিজেপি নেতা অশোক দিন্দা বলেছিলেন, “সৌরভ বরাবরই যে ক্ষমতায় থাকেন, তার দিকে ঘেঁষে থাকেন।” বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই মন্তব্যকেই ঢাল করছেন নেটিজেনরা। এক এক্স ইউজার সৌরভের গত কয়েক বছরের কর্মকাণ্ডের একটি কালপঞ্জি তুলে ধরে লিখেছেন, বিসিসিআই সভাপতি হওয়া থেকে শুরু করে দুর্নীতি নিয়ে চুপ থাকা—সবটাই ছিল স্বার্থসিদ্ধি। আর যেই বিজেপি জিতল, অমনি তিনি নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে ছুটলেন।

বাম থেকে রাম: দাদার দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌরভের ক্ষমতার ঘনিষ্ঠ থাকা নতুন কিছু নয়। একসময় বাম জমানায় সুভাষ চক্রবর্তী বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা যেমন ছিল প্রশ্নাতীত, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালেও তিনি ছিলেন সরকারি অনুষ্ঠানের ‘মুখ্য আকর্ষণ’। এবার রাজ্যে পদ্মফুল ফুটতেই তাঁর এই ‘পিএন পাঠক সংযোগ’ সাধারণ মানুষের চোখে নেহাতই কাকতালীয় নয়।

অবশ্য সৌরভের অনুগামীরা বলছেন অন্য কথা। তাঁদের দাবি, সৌরভ কোনো রাজনৈতিক দলেই যোগ দেননি। বাংলার ক্রিকেটের স্বার্থে যে কোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এখন দেখার, এই বিপুল ট্রোলিং আর ‘পাল্টিবাজ’ তকমা নিয়ে মহারাজ নিজে শেষ পর্যন্ত মুখ খোলেন কি না।