উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির কাউন্সিলর চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আততায়ীদের নিখুঁত ও পেশাদার পরিকল্পনার ছক। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘাতকরা কোন রুট ব্যবহার করেছিল, তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ঘটনার সময় ও পরবর্তী গতিবিধি বুঝতে এলাকার একাধিক রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হামলার পর আততায়ীরা দ্রুত যশোর রোডে উঠে পড়েছিল, যা ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ মিটার দূরে। এই যশোর রোড থেকে পালানোর একাধিক পথ রয়েছে। ডান দিকে গেলে বারাসত, আর বাঁ দিকে গেলে এয়ারপোর্ট। বারাসত হয়ে খুব সহজেই কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে বা আমডাঙা রুট ধরে নদিয়ার দিকে পালানো সম্ভব। আবার বারাসত থেকে বসিরহাট বা বনগাঁ সীমান্ত এলাকাতেও গা ঢাকা দেওয়া কঠিন নয়। অন্যদিকে, এয়ারপোর্টের দিকে গেলে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে এবং বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের সুযোগ ছিল। পুলিশ এই সমস্ত সম্ভাব্য রুটগুলোর প্রতিটি মোড়ের সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করছে।
তদন্তে আরও একটি স্তম্ভিত করার মতো তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অপারেশনে ঘাতকরা একটি চার চাকা গাড়ি এবং দুটি বাইক ব্যবহার করেছিল। জানা গিয়েছে, ব্যবহৃত চার চাকা গাড়িটির নম্বর প্লেটটি ছিল ভুয়ো। শুধু তাই নয়, তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে গাড়ির ইঞ্জিনে এবং ভেতরে থাকা চ্যাসিস নম্বর ঘষে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই গাড়ির আসল মালিক বা পরিচয় শনাক্ত করা না যায়, তার জন্যই এই চূড়ান্ত সতর্কতা নিয়েছিল অপরাধীরা। দোলতলা সাহারা ব্রিজের কাছে বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ ওই সন্দেহভাজন চার চাকা গাড়িটিকে দেখা গিয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। বাইক দুটির নম্বর প্লেটও ভুয়া বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি সুপরিকল্পিত খুন।





