২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, ঠিক তখনই দলের অন্দরে দানা বাঁধল বড়সড় অস্বস্তি। নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় এবং দলের আগামী রণকৌশল স্থির করতে বুধবার কালীঘাটে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই গরহাজির থাকলেন দলের ১০ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক। যা নিয়ে বর্তমানে বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট: নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় দলীয় সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। কালীঘাটে নিজের বাসভবনে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে এই ‘ক্লোজ ডোর’ বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু সূত্রের খবর, তালিকা মিলিয়ে দেখা যায় ১০ জন বিধায়ক নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হননি। পরাজয়ের গ্লানির মাঝে দলের এই ভাঙন বা সমন্বয়ের অভাবকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কেন এই অনুপস্থিতি? দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কয়েকজন বিধায়ক আগেভাগেই ছুটি নিয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ। বিজেপির সরকার গঠনের তোড়জোড় এবং বঙ্গে আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ১০ বিধায়কের গরহাজির থাকা কি কোনও বড় ভাঙনের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে তৃণমূলের অন্দরে।
মমতার কড়া বার্তা: বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে চলবে না। পরাজয় মানেই শেষ নয়, বরং আইনি লড়াই এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ফের সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। তবে নিজের দলের সেনাপতিদের একাংশেরই অনুপস্থিতি যে নেত্রীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
একদিকে যখন ২৫-এ বৈশাখ ব্রিগেডে বিজেপির মেগা শপথের প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরমহলের এই ফাটল দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই ১০ বিধায়ক শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গেই থাকেন নাকি অন্য কোনও পথ বেছে নেন, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।





