২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্য। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঝোড়ো ফলের সবচেয়ে বড় চমক ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে পরাজয়। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি। আর এই রাজনৈতিক পতনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল খোদ ‘পাওয়ার সেন্টার’ কালীঘাটের ছবি।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কলকাতার যে রাস্তাটি ছিল সাধারণের জন্য কার্যত নিষিদ্ধ, সেই ৩০-বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এখন উন্মুক্ত। মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা যায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের সেই বিখ্যাত লোহার ব্যারিকেড ও গার্ডরেলগুলো সরিয়ে ফেলছে কলকাতা পুলিশ। যে পথে যেতে আগে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় পার করতে হতো, আজ সেখানে অবাধে যাতায়াত করছে সাধারণ মানুষ।
ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা
নির্বাচনী ফলাফলে বিপর্যয়ের পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নৈতিক জয়ের দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই পরাজয় তিনি মেনে নিচ্ছেন না এবং এখনই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি একে ‘গণতন্ত্রের প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ইস্তফা না দিলেও, প্রশাসনের অন্দরে যে রদবদল শুরু হয়ে গেছে, তার প্রমাণ কালীঘাটের এই দৃশ্য।
নিরাপত্তা কমল অভিষেকের বাড়িরও
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাড়ির আশপাশের পুলিশি প্রহরা ও ব্যারিকেড সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। সূত্র মারফত খবর, নিয়ম মেনেই ‘আউটগোয়িং’ বা বিদায়ী সরকারের প্রতিনিধিদের থেকে এই বাড়তি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তার কারণে কালীঘাটের এই সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়া নিয়ন্ত্রণ ছিল। আচমকা এই কড়াকড়ি উঠে যাওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ একে নতুন যুগের সূচনা বলছেন, আবার কেউ বা একে একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের করুণ পরিণতি হিসেবে দেখছেন। সব মিলিয়ে, নীলবাড়ির লড়াই শেষে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কালীঘাটের ‘উন্মুক্ত’ রাজপথ।





