ভাঙার পথে তৃণমূল? মহুয়া-সায়নী-সাগরিকা কি এবার পদ্ম শিবিরে? কাটজুর এক পোস্টেই তোলপাড় বাংলা!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কেবল রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং বাংলার বুকে এক নজিরবিহীন সুনামির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২৯৪ আসনের যুদ্ধে ২০৭টি আসন দখল করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে গিয়েছে বিজেপি। বিপরীতে, দোর্দণ্ডপ্রতাপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে ধুলিসাৎ হয়েছে। কিন্তু এই শোচনীয় পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয়েছে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক টানাপড়েন।

এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই ঘি ঢেলেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু। তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এখন বাংলার রাজনীতির অলিতে-গলিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কাটজু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তৃণমূলের বর্তমান শোচনীয় দশায় দলের হেভিওয়েট নেতারা শীঘ্রই শিবির বদল করতে পারেন। কাটজু লিখেছেন, “মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ, সায়নী ঘোষ এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতারা যদি খুব তাড়াতাড়ি বিজেপিতে যোগ দেন, তবে আমি বিন্দুমাত্র অবাক হব না।” কাটজুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন টিএমসি তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সংকটের মুখোমুখি। শুধু তাই নয়, একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে তিনি লিখেছেন, তৃণমূল নেতাদের উচিত স্রেফ ঘোষণা করা যে তাঁরাই জিতেছেন, আর বাকি দুনিয়া জাহান্নামে যাক!

সোমবারের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মুর্শিদাবাদ। এককালে যে জেলার ২২টি আসনের মধ্যে ২০টিতেই জয়জয়কার ছিল ঘাসফুল শিবিরের, এবার তারা সেখানে মাত্র ৯টি আসনে ঠেকেছে। বিজেপির এই অভূতপূর্ব জয় ‘দিদি’র সমস্ত রাজনৈতিক অঙ্ক ও ‘খেলা’ নস্যাৎ করে দিয়েছে। পাঁচ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিধানসভায় ফিরতে পেরেছে বাম ও কংগ্রেসও, যা রাজ্যের দ্বিমুখী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে এবারের নির্বাচনে বড় অঘটন ঘটেছে বহরমপুরে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর দীর্ঘদিনের গডফাদার সুলভ ইমেজ থাকা সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাক্তন তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবির তাঁর নিজস্ব দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP) নিয়ে দুটি আসনে জয়ী হয়ে চমক দিয়েছেন। জয়ের পর কবির আক্রমণাত্মক সুরে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের কেবল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার যোগ্য জবাব মানুষ এবার ব্যালটে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, বাংলায় এখন একদিকে যেমন নতুন সরকারের শপথের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও দলবদলের গুঞ্জন চরমে পৌঁছেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy