পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দিলীপ ঘোষ মানেই বিতর্ক আর বিস্ফোরক মন্তব্য। কিন্তু এবার তিনি যে ভাষায় আক্রমণ শানালেন, তাতে কার্যত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করা থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ—দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মেজাজ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়ে দিয়েছে।
সম্প্রতি এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল এবং তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমেরিকায় যেমন ট্রাম্প নিজের পরাজয় মেনে নিতে পারেন না এবং সবসময় নিজেকে উপরে রাখার চেষ্টা করেন, এরাজ্যেও তাই হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছেন।” মমতাকে ট্রাম্পের সঙ্গে তুলনা করার পেছনে দিলীপের যুক্তি হলো, বর্তমান রাজ্য সরকার গণতান্ত্রিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে।
তবে বিতর্কের পারদ আরও চড়ে যায় যখন তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে অত্যন্ত কুরুচিকর আক্রমণ করেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মেজাজ হারিয়ে বলেন, “তোর বাপ কোথায়?” এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।
ইস্তফা দেওয়ার জল্পনা বা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে যখনই তাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, তখনই দিলীপ ঘোষ আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছেন। তাঁর দাবি, “আমি কারোর দয়ায় রাজনীতি করি না। যারা ভাবছেন আমাকে বসিয়ে দেওয়া যাবে, তারা ভুল স্বর্গে বাস করছেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপের এই ‘নজিরবিহীন আক্রমণ’ আসলে দলের ভেতরে এবং বাইরে নিজের অস্তিত্বের জানান দেওয়ার একটি কৌশল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন তুলনা এবং অভিষেকের প্রতি কদর্য ভাষা ব্যবহার বাংলার সংস্কৃতি ও সৌজন্যের রাজনীতির পরিপন্থী বলেই মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। এই ঘটনার পর তৃণমূল বনাম বিজেপি সংঘাত যে আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য।





