বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোতেই বাংলায় আছড়ে পড়েছে গেরুয়া ঝড়। আর এই অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে শুরু করেছে। এবার সরাসরি সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর (I-PAC) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন মালদহের দাপুটে নেতা তথা ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী।
রাজ্য তৃণমূলের এই সহ-সভাপতির দাবি, দলটাকে একটি করপোরেট হাউসে পরিণত করে তিলে তিলে শেষ করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টেলিভিশনের পর্দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাঞ্ছনা দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ৪১ বছর ধরে দিদির ছায়াসঙ্গী থাকা এই নেতা। কৃষ্ণেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও উপায় ছিল না। তাঁকে ধৃতরাষ্ট্রের মতো আটকে রাখা হয়েছিল। দলটাকে এইভাবে ধ্বংস হতে দেখে বুক ফেটে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান যে, দলের এই শোচনীয় অবস্থার কথা তিনি বারবার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু নেত্রী তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কৃষ্ণেন্দুর আক্রমণের তির সবথেকে বেশি ছিল আইপ্যাক-এর দিকে। তাঁর অভিযোগ, “আইপ্যাক অত্যন্ত বিপজ্জনক। নেতাদের থেকে টাকা নেওয়া আর পোস্ট দেওয়াই এদের কাজ। সংগঠনের কিছু না বুঝে এরাই প্রার্থী বাছাই করেছে। যোগ্যদের সরিয়ে দালালদের হাতে দল তুলে দেওয়া হয়েছে।”
নির্বাচনী লড়াই নিয়ে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দিয়ে কৃষ্ণেন্দু বলেন, “আমি এবার ইংরেজবাজারে প্রার্থী হতে চাইনি। গত তিন বারের ট্রেন্ড দেখে আমি বুঝেছিলাম, নিজের জীবন দিয়ে লড়ব, নিজের টাকা খরচ করব, আর শেষে গো হারা হারব। দালালদের হাতে দল থাকলে এমনই হয়।” তবে হারের গ্লানি থাকলেও তিনি বিশ্বাস করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দল শেষ হয় না, কিছু ব্যক্তি শেষ হয়ে যায়। এখন দেখার, এই বিদ্রোহের সুর তৃণমূলের ভাঙন আরও ত্বরান্বিত করে কি না।





