তৃণমূলের হারে কি তবে জ্বলছে সাগর? বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকে নৃশংস শ্লীলতাহানি, রণক্ষেত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা!

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে শুরু হলো ভয়াবহ রাজনৈতিক হিংসা। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি করার ‘অপরাধে’ এক কর্মীর স্ত্রীকে নৃশংসভাবে মারধর এবং শ্লীলতাহানি করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বর্তমানে ওই মহিলা অচৈতন্য অবস্থায় সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাগর বিধানসভা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটে নাগাদ যখন চারিদিক নিস্তব্ধ, তখন ওই মহিলা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় ওত পেতে থাকা ২-৩ জন দুষ্কৃতী তাঁর ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁর চুলের মুঠি ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে যায় এবং শাড়ি খুলে দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, “ওর গলা এমনভাবে টিপে ধরা হয়েছিল যাতে চিৎকার করতে না পারে। পিঠে ও বুকে প্রচণ্ড ঘুষি মারা হয়। আমি বিজেপি করি বলেই আমার পরিবারের ওপর এই আক্রোশ মেটানো হয়েছে।”

মহিলার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। বিজেপির দাবি, নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে না পেরে এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতেই এই সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, এবার সাগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাক্তন মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরাকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন বিজেপির সুমন্ত মণ্ডল।

তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই এই এলাকায় উত্তপ্ত পরিবেশ ছিল। গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, হার নিশ্চিত হতেই শাসক দলের দুষ্কৃতীরা বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় সাগর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। গোটা এলাকা এখন পুলিশি টহলের অধীনে রয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক কাটছে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy