তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন একটাই নাম—থালাপতি বিজয়। বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ‘তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম’ (TVK) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয়লাভ করে রাজ্যের দুই প্রধান শক্তি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু বিজয়ের এই রাজনৈতিক উত্থান এবং মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকার আনন্দের মাঝেই কালো মেঘ দেখা দিয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে। নির্বাচনের বিশাল জয়ের খবরের চেয়েও এখন শিরোনামে উঠে আসছে অভিনেতার বৈবাহিক বিচ্ছেদ এবং ছেলে জেসন সঞ্জয়ের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি অবাক করা তথ্য—বিজয়ের ছেলে জেসন সঞ্জয় ইনস্টাগ্রামে নিজের বাবাকেই ফলো করেন না! যদিও জেসন আগে তাঁকে ফলো করতেন কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে বর্তমানে জেসন মাত্র ৩৮ জনকে ফলো করলেও সেই তালিকায় তাঁর বাবার নাম নেই। অন্যদিকে বিজয় নিজে এই প্ল্যাটফর্মে কাউকেই ফলো করেন না। বাবা ও ছেলের এই ভার্চুয়াল দূরত্ব কি তবে তাঁদের ব্যক্তিগত মনোমালিন্যেরই বহিঃপ্রকাশ? নেটিজেনদের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
শুধু ছেলের সঙ্গে দূরত্বই নয়, বিজয়ের দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনেও নাকি ইতি পড়তে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, স্ত্রী সঙ্গীতা ইতিমধ্যেই বিচ্ছেদের জন্য চেঙ্গালপাট্টু পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। ১৯৯৯ সালে একজন ভক্ত ও তারকার সাক্ষাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই প্রেমকাহিনি এখন আদালতের দোরগোড়ায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সঙ্গীতা অভিযোগ করেছেন যে ২০২১ সালে তিনি বিজয়ের এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন, যা তাঁকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দেয়। বিশ্বাসঘাতকতা এবং মানসিক নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এদিকে বিজয়ের জয়ের পর তাঁর চর্চিত প্রেমিকা তথা জনপ্রিয় অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানকে নিয়ে নতুন করে বিয়ের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও বিজয় বা তৃষা কেউই এই নিয়ে মুখ খোলেননি, কিন্তু ডিভোর্স মামলার আবহে এই জল্পনা যেন আরও আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। জেসন ও দিব্যা—দুই সন্তানকে নিয়ে বিজয়ের সুখী গৃহকোণে কেন এই ফাটল, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের শেষ নেই।
ব্যক্তিগত জীবনের এই তোলপাড় সামলেও বিজয় এখন সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবিচল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে তাঁর আরও ১০টি আসনের প্রয়োজন। সূত্রের খবর, সরকার গঠনের জন্য টিভিকে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস এবং ছোট আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন সামলে বিজয় শেষ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর প্রশাসনিক গদিতে বসতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।





