ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত: ইরানের আকাশছোঁয়া হুমকিতে কি কাঁপছে বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের ঘনকালো মেঘ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) দাবি করেছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ১৫টি অত্যাধুনিক মিসাইল এবং ৪টি ড্রোন তারা মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে। সোমবারের এই হামলার পর গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমিরশাহি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, তাদের শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় থাকায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে ফুজাইরা তেল শোধনাগারের কাছে ড্রোন হামলার জেরে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় ৩ জন ভারতীয়সহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হাই অ্যালার্ট: যুদ্ধের প্রতিধ্বনি?
এই ঘটনার পর সৌদি আরব, কাতার এবং আমিরশাহিসহ সংলগ্ন দেশগুলোতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি বিক্ষিপ্ত হামলা নয়, বরং এক বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের অশনি সংকেত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশঙ্কা করছে যে এই অঞ্চলটি এখন কূটনীতির টেবিল থেকে সরে এসে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রদর্শনের দিকে এগোচ্ছে।

হরমুজ প্রণালী: বিশ্ব বাণিজ্যের নাভিশ্বাস
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের অবরোধের জেরে কয়েকশো পণ্যবাহী জাহাজ সেখানে আটকে পড়েছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মতে, বর্তমানে প্রায় ২৩,০০০ নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন, যা এক ভয়ংকর মানবিক ও বাণিজ্যিক সংকট তৈরি করছে। ইতিমধ্যেই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত পরিচয় বস্তুর আঘাতে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত: ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ (হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ বের করে আনার সামরিক অভিযান) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেই এই বিরতি। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়াতেই এই রণকৌশল নেওয়া হয়েছে।

ইরানের অস্বীকার ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
ইরান অবশ্য এই মিসাইল হামলার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যদি আমিরশাহির মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। এদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির চিন সফর নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা এই সংঘাতে বেজিংয়ের পরোক্ষ প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির ফাটল: ইজরায়েল-হেজবোল্লা সংঘাত
শান্তি ফিরছে না লেবানন সীমান্তেও। গত ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ব্যর্থ করে দিয়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইজরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট হামলা চালানো হয়েছে। জবাবে ইজরায়েলি বিমান বাহিনীও পালটা হানা দিয়েছে। এই রক্তক্ষয়ী খেলায় কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সামান্য একটি স্ফুলিঙ্গই দাবানল সৃষ্টি করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy