দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও গতিশীল এবং শক্তিশালী করতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। মঙ্গলবার ক্যাবিনেট মিটিং-এ শীর্ষ আদালতের বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিসহ অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ জন (৩৩ জন বিচারপতি এবং ১ জন প্রধান বিচারপতি)। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, সাধারণ বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৭ করা হচ্ছে। অর্থাৎ, আগামী দিনে প্রধান বিচারপতিসহ মোট বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৮।
কেন এই বড় সিদ্ধান্ত? পরিসংখ্যান বলছে, দেশের শীর্ষ আদালতে মামলার পাহাড় জমে রয়েছে। ৯২ হাজারেরও বেশি মামলা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায়। এই বিপুল পরিমাণ ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যই বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়বে, ফলে সাধারণ মানুষ অনেক দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।
সংবিধান সংশোধন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সংখ্যা পরিবর্তনের জন্য ১৯৫৬ সালের ‘সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতির সংখ্যা) আইন’ সংশোধন করতে হবে। এই লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই পার্লামেন্টে একটি সংশোধনী বিল আনতে চলেছে কেন্দ্র। ২০১৯ সালে শেষবার বিচারপতির সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৩ করা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় বছর পর আবারও বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামোয় এই বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে মোদি সরকার।
কী সুবিধা হবে সাধারণ মানুষের? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের কাজ আরও সহজ হবে। গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ মামলা এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যা সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনেক দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। বছরের পর বছর তারিখের পর তারিখ পাওয়ার ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন বিচারপ্রার্থীরা।
দেশের বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক এবং জনবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইন মহলের একাংশ। এখন কেবল সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষা, তারপরই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়।





