বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসার খবর আসছে। এবার খাস কলকাতায় বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। নিউ টাউন এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিলে হামলা এবং এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল গোটা এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউ টাউন থানা এলাকায় বিজেপি কর্মীরা জয়ের আনন্দ উদযাপনে একটি মিছিল বের করেছিলেন। অভিযোগ, মিছিলটি যখন একটি নির্দিষ্ট এলাকা অতিক্রম করছিল, তখন অতর্কিতে কিছু দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র নিয়ে মিছিলে হামলা চালায়।
ঘটনার বিবরণ: বিজেপি শিবিরের দাবি, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন এক বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে নিউ টাউন। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
পুলিশের অ্যাকশন: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ (RAF)। উন্মত্ত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এর ফলে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পথচারী আহত হয়েছেন বলে খবর। গোটা এলাকা বর্তমানে নিস্তব্ধ, তবে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ পিকেট।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, “গণতন্ত্রের জয় সহ্য করতে না পেরেই বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি একটি স্থানীয় বিবাদ এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।
ভোট-পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পুলিশ ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। তবে খাস কলকাতায় এদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আগামী কয়েকদিন রাজনৈতিক তর্জা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।





